বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কালো থাবা দেশকে গ্রাস করে ফেলেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষকে এরা বিপদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি জামাতকে সাথে নিয়ে ক্ষমতার অংশীদার করেছিল, বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হেফাজতের সাথে আপস করেছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কাছে সরকার একের পর এক মাথা নত করছে। এই অপশক্তির হাত থেকে গ্রামাঞ্চলকে বাঁচাতে কৃষক-ক্ষেতমজুরসহ সকললের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আজ ২১ এপ্রিল, শুক্রবার বিকালে মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে কৃষক সমিতি ও ক্ষেতমজুর সমিতির যৌথ সভায় কমরেড সেলিম আরও বলেন, কৃষক-ক্ষেতমজুরদের ঐক্যবদ্ধভাবে গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজ বাড়াতে হবে। একাত্তর সালে মুক্তাঞ্চলে চুরি-ডাকাতি হয় নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ যখন তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবী আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে তখন শোষকের দল মানুষের মধ্যে দাঙ্গা লাগিয়ে দেয়, সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়। অতীতে যেখানে কৃষক সংগঠন ও আন্দোলন শক্তিশালী ছিল সেখানে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, হেফাজতের ১৩ দফার সবগুলো সরকার বাস্তবায়ন করেছে। পাঠ্যবইয়ে সকল প্রগতিশীল লেখকদের লেখা বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন তারা সুপ্রীম কোর্টের সামনে ভাস্কর্য নিয়ে মেতে উঠেছে। এরা সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলে না উল্লেখ করে তিনি বলেন লক্ষ লক্ষ হাওরবাসী যখন উপবাসী তাদের প্রতি এদের কোন কথা নেই।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষকরা আজ ফসলের দাম পাচ্ছে না। ক্ষেতমজুরদের সারা বছর কাজ ও খাদ্যের নিশ্চয়তা নেই। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পল্লী রেশন চালু ও ফসলের লাভজনক দাম দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, হাওর ভেসে লক্ষ লক্ষ মানুষকে দুর্দশাগ্রস্থ করা হয়েছে। এখন সাধারণ মানুষের বেচে থাকার অবলম্বন মাছগুলোও মারা যাচ্ছে। অথচ সরকারের এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নেতৃবন্দ অবিলম্বে হাওর অঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে মানুষকে বাঁচানোর দাবি করেন। সভায় হাওরবাসীকে রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রেজা, কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. এস এ সবুর।
স/জনী

