ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

চাকমা মেয়েদের ফর্সা ও দৈহিক স্লিমের রহস্য কি?

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ৯:২১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চাকমা মেয়েদের ফর্সা ও দৈহিক স্লিমের রহস্য কি?

অন্তর মন্ডল : আমরা চাকমারা প্রধানত মঙ্গোলীয় অর্থাৎ মঙ্গোলয়েড জাতি গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ইতিহাসবেত্তারা তাই লিপিবদ্ধ করে গেছেন তাদেঁর বিখ্যাত বইতে। অতীতে আদিকালের মানুষরা তাদের ইতিহাস লিখে যেতে পারেনি, কারণ তাদের কাছে বর্তমানকালের ন্যায় কাগজ-কলম ছিল না। এই কারণে প্রাচীন ইতিহাসে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আমাদের এবং ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। তার মধ্যে চাকমাদের ইতিহাস,উৎপত্তি এবং আদি বসতি নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক্ রয়েছে।

কিন্তু চাকমাদের আকার আকৃতি, দেহের গঠন মঙ্গোলীয়দের ন্যায় সদৃশ(এই ব্যাপারেও বিতর্কের শেষ নাই)।আমি ইতিহাসবেত্তাদের ন্যায় ইতিহাসের অতীত সম্পর্কে অত জ্ঞাত নই, তবে এই ব্যাপারে যদি সন্দেহ পোষন করেন তাহলে আপনার যদি সামর্থ্য থাকে আমাকে র্ডাক সিরিজ মুভির ন্যায় এমন একটি গুহা তৈরি করে দিন যেখানে এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে( অর্থা্ৎ টাইম ট্রাভেল করে অতীতে ফিরে যাওয়া) চাকমাদের পূর্ব্পুরুষ এবং তাদের মূল উৎপত্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে পারি(JUST KIDDING)।বিজ্ঞান এবং ইতিহাস মিলিত ভাবে পড়ে যা অনুধাবন করলাম,মঙ্গোলীয়রা হয়তো প্রাচীনকালে এমন অঞ্চলে বসবাস করতো যেখানে সূর্যের তাপ কম পতিত হতো।

কারণ আমাদের শরীরের রং কালো অথবা ফর্সা হওয়া নির্ভর করে শরীরে মেলানিন পরিমাণের উপস্থিতির উপর। এই মেলানিন ত্বকে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি অথবা অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাব নিয়ন্ত্রন করে। এই আলট্রাভায়োলেট রশ্মি ত্বকে প্রবেশ করে ভিটামিন ডি তৈরি করে আবার যদি বেশী প্রবেশ করে তাহলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যে দেশে সূর্যের তাপ যত বেশী সে দেশের মানুষ হয় কালো আর যেখানে সূর্যের তাপ কম ঐখানকার মানুষরা হয় ফর্সা। কারণ সূর্যের তাপ কম হওয়া মানে আলট্রাভায়োলেট রশ্মি কম পতিত হওয়া আর রশ্মি কম পতিত হওয়া মানে ত্বকে মেলানিনের প্রয়োজন কম হয় ফলশ্রুতিতে গায়ের রং হয় ফর্সা। ঘটনা যদি ঠিক তার উল্টোটি ঘটে তাহলে গায়ের রং হয় কালো।

মানুষ কালো অথবা ফর্সা কেন হয় অনেক লিংক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার মধ্যে উক্ত লিংকটি পড়লে আশা করি আপনাদের সন্দেহ দূর হতে পারে→ত্বক কালো হওয়ার কারণ – Bio-Xin Cosmeceuticals। যেহেতু চাকমারা মঙ্গোলীয় অর্থাৎ মঙ্গোলয়েড জাতি গোষ্ঠীর অন্তভুর্ক্ত সেহেতু উপরের কালো অথবা ফর্সা হওয়ার কারণ বর্ণ্না অনুযায়ী চাকমাদেরও ফর্সা(ব্যতিক্রমও আছে) হওয়া উচিত এবং তারা হয়েছেও ৯৯% ফর্সা। আপনার অনুসন্ধিৎসু মন যদি জানতে চায়. মঙ্গোলয়েডের উৎপত্তি কোথা থেকে তাহলে এই লিংকে কষ্ট করে একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন—মোঙ্গোলীয় জাতি

আপনার প্রথম প্রশ্ন চাকমা মেয়েরা এতো ফর্সা কেন→ স্বাভাবিক ফর্সা কেন? তা উপরের বর্ণ্নাতে আশা করি বুঝতে পেরেছেন। আর অধিক ফর্সা বলতে বুঝি বিদেশী রমণীদের। তাদের যা গায়ের রং এক কথায় “মাশাল্লাহ”। আমাদের তিন পার্ব্ত্য এলাকা পুরোপুরি বিচরণ করেও বিদেশী রমণীদের ন্যায় অত ফর্সা্ মেয়ে খুজে পাবেন না। মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান জাতির মধ্যে উজ্জ্বল ফর্সা, শ্যামলা, মুখটা ফর্সা্ শরীরের বাদ বাকী অংশ কালো অথবা হলুদ টাইপের ফর্সা মেয়ে খুজেঁ পাওয়া গেলেও চাকমা মেয়েরা অত পাচঁমিশালী গায়ের রঙ অর্জ্ন করতে পারেনি তাদের অতীতের বংশধরদের থেকে।

আপনি চোখে যা দেখেছেন ঐ রংটাই গড়ে সব চাকমা মেয়েরাই অর্জ্ন করতে পেরেছে(ব্যতিক্রমও আছে)। মেয়ের সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে মেয়েরা মুখের প্রসাধনী ব্যবহার করতেই পারে আর তা যদি কোনো স্বাভাবিক ফর্সা চাকমা মেয়ে্ ব্যবহার করে তাহলে তাকে স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক ফর্সা দেখায়, তাই হয়তো আপনার চোখে সব চাকমা মেয়েকে বেশী ফর্সা লেগেছে।

দ্বিতীয় প্রশ্ন স্লিম থাকার রহস্য কি?→ কোনো রহস্য নাই, সন্তান তার মা-বাবার ন্যায় অথবা দাদা-দাদী,নানা-নানী অথবা রক্তের সম্পর্কের যেকারোর ন্যায় হতে পারে(এটাই SCIENCE); সোজা কথায় বলতে গেলে বংশ থেকে পাওয়া। আর চাকমারা কোথা থেকে উদয় হলো তা নিশ্চয় আর বোঝাতে হবেনা। তারপরেও বলি, সব চাকমা মেয়েই যে স্লিম হয় তা কিন্তু সত্য না তবে জড়িপ করে দেখলে গড়ে চাকমা স্লিম মেয়ের সংখ্যার পাল্লা ভারী হবে তা কিন্তু মিথ্যা না।

সিলকী চুল, কম প্রশস্তযুক্ত শরীর, চ্যাপ্টা নাক, মাঝারি সাইজের স্তন এবং চিকন চোখ মূলত এসব কারণে তাদেরকে স্লিম দেখায়। আর একটি গুরুত্বপূর্ণ্ বিষয় হলো চাকমাদের দৈনিক খাদ্য তালিকায় বেশীরভাগ সময় মাছ, শাক-সবজি, থাকে,মাংস জাতীয় খাবারও থাকে তবে অন্যা্ন্য জাতির(মুসলমান, হিন্দু, খ্রীষ্টান )তুলনায় খুবই কম। যেখানে শাক-সবজি আপনারা ভোজ্য তেল দিয়ে রান্না করেন সেখানে চাকমারা সচরাচর তেলের মধ্যে রান্না খুব কমই করে থাকে। চাকমারা তেলের পরিবর্তে ‘সিদোল’ (বিভিন্ন মাছকে শুকিয়ে একত্রিত করে পিষিয়ে তৈরি করা মন্ড)দিয়ে শাক-সবজি রান্না করে থাকেন। ফলে চাকমাদের শরীরে অন্যান্য জাতির ন্যায় অত বেশী কোলেস্টেরল থাকে না এবং মাংস জাতীয় খাবার কম খাওয়ার দরুন চাকমা জাতির মধ্যে ভুড়িওয়ালা লোকের সংখ্যা কম। তবে খাদ্যভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রনে না থাকে তবে শুধু চাকমা মেয়ে কেন পৃথিবীর কোনো মেয়েই স্লিম ধরে রাখতে পারবেনা।

স/এষ্