ঢাকাসোমবার , ৩১ জুলাই ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

নবাবগঞ্জে ইছামতি নদীতে চলছে বালু লুটপাটের মহোৎসব

admin
জুলাই ৩১, ২০১৭ ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মো. আলীনূর ইসলাম মিশু, নবাবগঞ্জ 

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইছামতি নদীর ভাঙ্গাভিটা এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী চক্র। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বালু লুণ্ঠন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে এর পার্শ্ববর্তী বসত বাড়ি ও শত শত একর আবাদী কৃষি জমি হুমকির মূখে পড়েছে। চক্রটির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ঐ এলাকার কৃষি জমির মালিকরা। প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না এলাকাবাসী। এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা মো. মুরাদ মিয়ার নেতৃত্বে একদল প্রভাবশালী চক্র প্রশাসন কে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে গত ১ মাস যাবত অবাধে বালু উত্তোলণ করে চলছে। শত শত বিঘা কৃষি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে ঐ চক্রটি। ফলে আশপাশে জমির খনিজ গুণ ও উবর্রতা কমে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমি। এমতাবস্থায় পার্শ্ববর্তী বসত বাড়ি ও শত শত একর আবাদী কৃষি জমি হুমকির মূখে পরেছে। চক্রটির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ঐ এলাকার জমির মালিকরা।
এলাকাবাসী জানায়, ইছামতি নদীর ভাঙাভিটা এলাকায় ২টি ড্রেজার বসিয়ে গত এক মাস ধরে দিনরাত অবাধে বালু উত্তোলণ করে চলছে ঐ বালুদস্যুরা।
ভাঙ্গাভিটা গ্রামের কৃষক পরিতোষ বাবু বলেন, আমাদের এলাকায় কোন কালেও বালু মহল ছিলো না। মুরাদ মিয়া ফসলি জমির ধারে ১৬ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের লোহার পাইপ দিয়ে ১শ’ ২০ ফুট গভির থেকে বালু উত্তোলন করতে পারে এমন দুইটি বড় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। সিফাত ও হাজী সামাদ নামের দুটি বালু কাটার মেশিন প্রতিদিন শতাধিক বাল্কহেডের বালু লোড দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র কুমার জানায়, এভাবে দিনরাত বালু উত্তোলণ চলতে থাকলে ১কি.মি. দূরের ফসলি জমি ও আশপাশের বাড়িঘর দেবে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি জমি হারাবে এমন আশংকা করছি আমরা। এ চক্রের ক্ষমতা আর টাকার কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অনেক সময়ে বালু উত্তোলনের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া যায়। এ চক্রের ক্ষমতা আর টাকার কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে এমনি জানালেন নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
ভাংগাভিটা গ্রামের বাসিন্দা গনেশ বলেন, আমাদের গ্রামের ৯৮ ভাগ অধিবাসী হিন্দু সম্প্রদায়। প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। কারো জমি কেটে নিয়ে গেলেও কিছু করার থাকে না। কেউ বাধা দিতে গেলে তাকে প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেয়।
এব্যাপারে বালু উত্তোলনের মূলহোতা মুরাদ মিয়া বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ভূমি মন্ত্রনালয় ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমোদন নিয়ে বালু কাটছি। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে অবহিত করা আছে। আমি এমপি মহোদয়ের ইউনির্ভাসিটি নিচু জায়গা ভরাট করার অনুমতি নিয়েছি। আপনি এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বালু উত্তোলনের হিসেব মোতাবেক দেখা যায় প্রতিদিন ৪০/৪২ টি বাল্কহেডের বালু লোড দিচ্ছে। এর মধ্যে থেকে প্রতিদিন ১টি বাল্কহেড বালু ইউনির্ভাসিটির জন্য বরাদ্দ বাকি ৪০/৪১ টি বাল্কহেড বালু অন্যত্রে বিক্রি করছে বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
নবাবগঞ্জের বাসিন্দা, সাবেক গণপরিষদ সদস্য আবু মো. সুবিদ আলী টিপু বলেন, শত শত একর জমি কেটে লুটপাটের মহোৎসব চলছে। দেখার কেউ নেই। বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটছে। অপরদিকে কৃষি জমি লুপাট হচ্ছে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ সরকারী সফরে দেশের বাহিরে থাকায় দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একে এম আল আমিন বলেন নবাবগঞ্জ উপজেলায় কোন বালুমহল নেই সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক মহোদয় কোন অনুমতি প্রদান করার কথা নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি জানান আমি একটি ইউনির্ভাসিটি করার জন্য ব্যক্তিগত জমি থেকে মাটি কাটার অনুমতি দিয়েছি। আপনার যা খুশি তা লিখতে পারেন তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।

স/এষ্