খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরের ৫৪ নং ভাতকাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
স্থানীয় আ. করিমের ছেলে মো. আ. আজিজ নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগে বলেন , ৫৪ নং ভাতকাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত দপ্তরী কাম প্রহরী হুমায়ুন কবির ২০১০ সালে ৫৪ নং ভাতকাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেনীতে অধ্যয়নরত ছিল যার শ্রেনী রোল নং ছিল ১৩ । দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ পেতে হলে প্রার্থীর সর্বনি¤œ শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে অষ্টম শ্রেনী পাশ হলেও হুমায়ুন কবির ৫ম শ্রেনীতে ভর্তি না হয়ে লেখাপড়া বন্ধকরে চাকুরীর জন্য ঢাকায় চলে যায় । সেখানে সে কোন স্কুলে ভর্তি হয় নাই এবং ৫ম শ্রেনীর সমাপনী পরিক্ষায় অংশগ্রহন এবং ২০১০ থেকে চালু হওয়া জেডিসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন না করে ৮ম শ্রেনীর সার্টিফিকেট দূর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন মো. আ. আজিজ।
তিনি আরও বলেন হুমায়ুন কবির চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর যে সার্টিফিকেট দিয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ পেয়েছে সেটি জাল সনদ। উপজেলা শিক্ষা অফিস এর সুষ্ঠু তদন্ত করলে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে ।
স্কুল ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি মো:মিজানুর রহমান রুবেল বলেন, বিদ্যালয়ে দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগ দেয়া হবে তা জেনেছি এবং আবেদন করেছে ৫ জন প্রার্থী এদের মধ্যে যাচাই বাছাই পরিক্ষায় অংশ গ্রহন ও করেছে ৫ জন। এর পরে নিয়োগে অনিয়মের আভাস পেয়ে আমি নিয়োগ কমিটিতে অংশ গ্রহন করিনি ।
রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমরা নিয়োগ পরীক্ষার আগেই উপজেলা শিক্ষা অফিসার কর্তৃক তদন্ত করেছি এবং হুমায়ুনের সার্টিফিকেট সঠিক হিসাবে শিক্ষা কর্মকর্তা সার্টিফাই দেওয়ায় হুমায়ুনকে নিয়োগ দিয়েছি । এব্যাপারে সঠিক কোন অভিযোগ পেলে পরবর্তিতে ব্যবস্থা গহন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো.আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা আ.আজিজ নামে স্থানীয় এক লোকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করেছি । ২০১০সালে হুমায়ুন ৫৪ নং ভাতকাঠি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল এটা যেমন ঠিক আবার চল্লিশ কাহনিয়া উত্তমপুর দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল বলেও অমরা তথ্য প্রমানে পেয়েছি । মাদ্রাসার ছাত্ররা স্কুলে গিয়ে নিচের ক্লাসেই ভর্তি হয় । নিয়োগের ব্যাপারে রাজনৈতিক ভাবে চাপ থাকায় বেশী কিছু বলতে পারছি না তবে নিয়োগের ব্যাপারে দূর্নিতী হয়েছে এমন অভিযোগ উড়িয়ে দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
স/মা

