ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) ॥ খুলনার পাইকগাছায় কয়েক দিনে বিরামহীন গুড়িগুড়ি ও ভারী বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে উপজেলা ও পৌরসদরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারোও চিংড়ি ঘের, পুকুর, জলাশয়ের মাছ ও চিংড়ি ভেসে গেছে। চলতি মৌসুমের আমনের বীজতলায় হাটু পানিতে, ক্ষেতের ফসল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতিতে কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। উপজেলার পৌর সদরসহ ১০টি ইউনিয়নের চিংড়ি ঘের মালিক ও কৃষকদের মাঝ থেকে জানা গেছে, নিম্নচাপের কারণে গত ২২ জুলাই থেকে বিরামহীনভাবে কখনও গুড়িগুড়ি, কখনও মুশলধারে বৃষ্টিপাতে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে মিষ্টি পানির পুকুর, জলাশয়, হাজার-হাজার বিঘার লবণ পানির চিংড়ি ঘের, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মৎস্য সম্পদের।
অন্য দিকে, অতি বৃষ্টিতে কৃষি ক্ষেত-খামারসহ চলতি আমন মৌসুমের বীজতলায় হাটু পানির উপরে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্লাবিত হয়ে কোথায়ও- কোথায়ও জলবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অসাধু কিছু ঘের মালিক স্লুইচ গেট নিয়ন্ত্রন করে কৃতিম জোয়ার সৃষ্টি করে ক্ষতি ডেকে আনছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সুত্র জানিয়েছেন, অতি বৃষ্টিতে হরিঢালী, কপিলমুনি, গড়ইখালী, দেলুটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ১শ হেক্টরের অধিক আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমান আরোও বৃদ্ধি হতে পারে বলে কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তা এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, এ মৌসুমে বীজের ঘাটতি পূরনের সম্ভাবনা নেই। তবে, তাঁরা কৃষকদের টিনের গোলা বা বাড়ীতে সংরক্ষিত ভোজধান থেকে বীজতলা বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ভাংঙন কবলিত নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ ভাঙ্গনের আশংঙ্খায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স/এষ্

