আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনে প্রার্থী দেবে ‘জিএসডি’
নিজস্ব প্রতিবেদক, চমক নিউজ ।। “মানবতার জয়, বিভেদের নয়”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৩ সাল থেকেই রাজনৈতিক মাঠে নিজেদের সক্রিয় রেখেছে গুরুচাঁদ সেনা দল (জিএসডি)। গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শকে বুকে লালন করে সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে নিরলসভাবে নানান সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে দলটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০৩১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সবকটি (২৯৪টি) আসনেই নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার দূরদর্শী লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছে তারা। এই উদ্দেশ্য সফল করতে ইতিমধ্যে জেলা ও থানা পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি গঠন এবং কর্মী-সমর্থক বাড়ানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।
দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে জিএসডি-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সন্তোষ কুমার অধিকারী বলেন, “আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। আমরা বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে রাজ্যের প্রতিটি কোণায় মানুষ আমাদের এই মানবতার ডাক লুফে নেবে।”
একই সুর শোনা গেল দলের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু অধিকারীর কণ্ঠেও। সাংগঠনিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, “তৃণমূল পর্যায় থেকে দলটিকে শক্তিশালী করাই এখন আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে আমাদের বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করছি এবং সাধারণ মানুষের বিপুল সাড়াও পাচ্ছি।”
দলের সহ-সভাপতি গুরুপদ বিশ্বাস জানান, “আমরা কেবল রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই, আমরা বিশ্বাসী সমাজ সংস্কার ও মানবতার সার্বিক জয়গানে। দলিত, শোষিত, বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মেহনতি মানুষের (SC/ST/OBC/MC) জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সার্বিক পরিবর্তন সাধন করাই গুরুচাঁদ সেনা দলের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে কমিটি গঠন ও কর্মী সংগ্রহের কাজ বেগবান করতে গত ৪ জুন দলের কার্যনির্বাহী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং আগামীর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতি সন্তোষ কুমার অধিকারী, সহ-সভাপতি গুরুপদ বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি আশুতোষ শিকদার, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি রাহুল বিশ্বাস, জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি ভীম চন্দ্র সরকার এবং উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন সরকারসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষস্তরের নেতাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, কেবল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আগামী তিন মাস ব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে গুরুচাঁদ সেনা দল। এর অধীনে রাজ্যজুড়ে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ অভিযানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কেন আপনি ‘গুরুচাঁদ সেনা দল’-এর সাথে যুক্ত হবেন?
আগামী ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুচাঁদ সেনা দল প্রতিটি জেলা ও থানা পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করছে। সমাজ পরিবর্তনের এই অগ্রযাত্রায় সাধারণ মানুষকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ ৪টি মূল স্তম্ভ তুলে ধরেন:
অধিকারের লড়াই: পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষায় আপসহীন নেতৃত্ব দিতে।
গুরুচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ: বিভেদ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে “মানবতার জয়, বিভেদের নয়” এই মন্ত্রকে বাস্তব রূপ দিতে।
সামাজিক উন্নয়ন: বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা বিস্তার, পরিবেশ রক্ষা (বৃক্ষরোপণ) এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে সরাসরি অংশ নিতে।
নতুন নেতৃত্বের বিকাশ: সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সৎ, যোগ্য ও জনদরদী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে।
“আসুন, বিভেদের রাজনীতি রুখে দিয়ে মানবতার হাত ধরি।”
এই পরিবর্তনের অগ্রযাত্রায় আপনার একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে সমাজকে। আজই সদস্য হোন এবং সমাজ পরিবর্তনের গর্বিত অংশীদার হোন! যোগাযোগের জন্য আপনার নিকটবর্তী জেলা বা থানা কমিটির সাথে যোগাযোগ করুন।