ঢাকারবিবার , ৯ জুলাই ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

সিরাজদিখানে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

admin
জুলাই ৯, ২০১৭ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে নৌকা তৈরীর ধুম পড়েছে। বর্ষার আগমনের সাথে সাথে নদ-নদী ভড়ে উঠছে পানিতে। এই পানী নদ-নদী ছাপিয়ে পানি পৌছে গেছে বিল গুলোতে।বর্ষা কবলীত গ্রামগুলোর চারপাশে বর্ষার থইথই পানি,কোথাও যেতে নৌকাই হলো তাদের একমাত্র ভরসা। তাছাড়া যাদের বছরের নৌকা আছে সেটাকেও তারা মেরামত করে নিচ্ছেন চলাচলের উপযোগী করে। সরেজমিনে সিরাজদিখানের বিভিন্ন বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিস্ত্রীরা। হাটগুলোতে বিক্রি হচ্ছে নানা রকমের নৌকা। বেড়ে গেছে এলাকায় মৌসুমি ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে মাঝি ও মিস্ত্রীরা। বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে এ আশ-পাশের গ্রামে গৃহস্থালি কাজে এবং খেয়া পারাপারে ও গো-খাদ্যের জন্য কোষা ও ডিঙি নৌকার কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আর এ সুবাদে সিরাজদিখানের ইছাপুরা বাসষ্ট্র্যান্ডের দূর্গমন্দিরের পাশে গড়ে উঠেছে ডিঙি ও কোষা নৌকা তৈরী ও বিক্রির অস্থায়ী বাজার। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ক্রেতারা তাদের পছন্দসই নৌকা এখান থেকে কিনে নিচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই এই এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন হিসেবে নৌকা ব্যবহার করে থাকে।উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলিতে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা নৌকার মাধ্যমে স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। বর্ষার শুরুতেই এলাকার মৌসুমি জেলেরা নৌকা দিয়ে রাত দিন মাছ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। উপজেলার নিচু এলাকার বাসিন্দারা নৌকার মাধ্যমে খেয়া পার হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম ও স্কুল,কলেজ,হাটবাজারেযায়।নৌকারউপরনির্ভরশীলগ্রামগুলোহলো,উপজেলার,ইছাপুরা,মধ্যপাড়া,রশুনিয়া,সিরাজদিখান,বাজার,বালুরচর,বাজার,গোডাউনবাজার,তালতলা বাজার,মধ্যপাড়া বাজার,ভাড়ারিয়া বাজার। কেউ তার পুরানো নৌকা অথবা কাঠের ট্রলারটিকে মেরামত করছেন। কেউ নতুন নৌকা তৈরী অথবা আবার কেউ কেউ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত নৌকা রং ও আলকাতরা দিয়ে ব্যাবহারের উপযোগী করছেন। এভাবেই চলছে মিস্ত্রীদের মহাব্যবস্ততা।
নৌকা তৈরীর মিস্ত্রী আ: রহিম জানান, এ বছর সিরাজদিখানে ১০হাজার নতুন নৌকা নির্মিত হয়েছে। উপজেলার সিরাজদিখান, ইছাপুরা, রাজানগর, বালুরচর, কালীনগর,কষ্ণনগর,চরবয়রাগাদী,পাইনারচর, শেখরনগর, ভাড়ারিয়া, মধ্যপাড়া, খারশুল, চিত্রকোট ইউনিয়নের বেশ কিছু নৌকার ব্যবহার হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। এসব গ্রামেপ্রায় বাড়িতেই বর্ষাকালে যাতায়াতের জন্য একটি করে নৌকা রয়েছে। এক সময় বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকায় পালতুলা নৌকা চলতো।
স্থানীয় মুরুব্বি কাশেম আলী জানান, ছোট বেলা থেকেই বাবার সাথে নৌকা তৈরীর কাজ করে আসছি। বর্ষা এলেই বেড়ে যায় নৌকা তৈরীর কাজ । আর সারাবছর অন্যকাজ করে সংসার চালাতে হয় আমাদের।
আগে ভালো ভালো কাঠ দিয়ে নৌকা তৈরী করতাম,এখন কড়াই, চাম্বল ও মেহগনি দিয়েই বেশী নৌকা তৈরী করি। নৌকা তৈরিতে কাঠ ছাড়াও মাটিয়া তৈল, আলকাতরা, তাড়কাটা, গজাল, পাতাম ইত্যাদি লাগে যা নৌকাকে দীর্ঘ দিন টিকসই রাখে। একজন মিস্ত্রী প্রতিদিন একটি ডিঙ্গি নৌকা তৈরি পারে। আর ছোট নৌকা ৮ টি তৈরী করতে পারে। ১২ হাত লম্বা একটি নৌকা তৈরীতে আমাদের খরচ হয় প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয় আর সেটা বিক্রি করি ৭ হাজার টাকায়। ছোট নৌকা তৈরী খরচ ৩ হাজার বিক্রি করি সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায়। এছাড়াও নদী তীরবর্তী পদ্মা, মেঘনা এলাকার বাজারগুলোতেও বেড়েছে নৌকা তৈরী ও বিক্রি।

স/এষ্