ধামরাই (ঢাকা) থেকে মো. মাসুদ সরদার:
ধামরাইয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠা আলোচনা সমালোচনা ও দফায় দফায় বৈঠকের মধ্যদিয়ে গত ৩জুলাই সোমবার বিকেলে শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের ৪শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী যশোমাধবের উল্টো রথযাত্রা।
এ উল্টো রথযাত্রায় জঙ্গি হামলা বা নাশকতা হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিল আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অবস্থা প্রতিরোধে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। ফলে রথযাত্রাস্থল অর্থ্যাৎ ধামরাই বাজারের প্রধান সড়কের দুপাশে সকল দোকানপাট, চিত্তবিনোদনের সার্কাস, নাগরদোলা, র্যাফেল ড্র (লটারী) গত রবিবার সকাল ৮টা থেকে পরদিন সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। তবে দুপুর থেকেই রাস্তায় যানবাহন চলাচল ছিল না বললেই চলে । তবে আর্থিক লেনদেনের জন্য নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ব্যাংক খোলা ছিল।
মেলায় দোকানপাট উচ্ছেদ করায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শতশত মানুষ ধামরাই বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এসময় তারা বলে ছিল দোকানপাট বন্ধ কেন জবাব চাই। রথের চাকা ঘুরবেনা ঘুরবেনা। শুধু তাই নয় রথের প্রকৌষ্ঠে কালো কাপড় দিয়ে মোড়িয়ে দিয়েছিল। এনিয়ে গতকাল সন্ধায় কায়েৎপাড়ায় মাধবমন্দিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ রিজাউল হক হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় রথটানের কথা বলা হলেও হিন্দু সম্প্রদায় তা মানেনি।
অবশেষে রবিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ এম এ মালেক, পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লোকজনদের সাথে প্রায় দুই ঘন্টা ব্যাপি বৈঠক করার পর রথটানের সিদ্ধান্ত হয়। গত দুইদিন ধরে মেলার প্রতিটি প্রবেশ মুখে আগত লোকজনদের ব্যাগ ও দেহ এমনকি পরিবহনেও তল্লাশী করা করা হয়েছিল। গত শনিবার থেকেই বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল ধামরাই বাজার এলাকায়। মেলা সংলগ্ন বাসাবাড়ীতেও অভিযান এবং কোন বাড়ীতে অতিথি আসলেও তাদের ঠিকানাসহ ছবি নেওয়ার কথা বলাছিল। এছাড়া মেলায় আগত দর্শনার্থীদেরও গতিবিধি লক্ষ্য রেখেছিল আইন শৃংখলা বাহিনী।
এদিন দুপুর থেকেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি ক্যামেরা আর চেকিং গেইট বসানো ছিল বিভিন্ন পয়েন্টে। মেলায় নিরাপত্তার জন্য সাড়ে ৮শত পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইন শংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিল। মোট কথা এদের কর্মতৎপরতায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল রথমেলা প্রাঙ্গন।
স/এষ্

