কর্মস্থল ছেড়ে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন রাজধানীবাসী। আর এতে ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা।
শুক্রবার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশন এবং বিপনি বিতানগুলোর সামনে গণপরিবহনের চাপ থাকলেও নগরের অন্যত্র সড়কগুলো ছিল ফাঁকা। শনিবার বিকেলের পর থেকে কোলাহল ও দূষনমুক্ত ঢাকার দেখা মিলবে বলেই মনে করছেন রাজধানীতে ঈদ উদযাপন করতে যাওয়া নগরবাসী।
বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকেই গ্রামমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। শুক্রবার এ ভিড় আরো বেড়েছে। বলতে গেলে রাজধানীর বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ এরই মধ্যে গ্রামের বাড়ি গেছেন কিংবা রাস্তায় রয়েছেন। শনিবার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংকও খোলা থাকবে। ঈদ উদযাপন করতে যারা গ্রামে যাবেন তারা শনিবার বিকেলের মধ্যেই রওনা হবেন।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কমলাপুর রেল স্টেশন, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চটার্মিনালের আশপাশের এলাকায় পরিবহনের চাপ কিংবা হালকা যানজট আছে। একই অবস্থা বিপনিবিতানগুলোর সামনে। তবে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহনের চাপ ছিল না। দু-একটি সিগ্যনালে একটু অপেক্ষা করতে হলেও তাতে বিরক্ত হননি রাজধানীবাসী।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২৬ বা ২৭ জুন বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে ২৬ জুন ঈদ ধরে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
রোববার থেকে এ ছুটি শুরু হবে। কিন্তু শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ হওয়ায় সবাই গ্রামে একটু বেশি সময় কাটাতে আগেবাগেই ঢাকা ছেড়েছেন।

গুলিস্তানের মত ব্যস্ততম এলাকায় যেখানে যানজট নিত্যদিনের চিত্র সেখানে শুক্রবার বিকেলে গণপরিবহনে তেমন একটা চাপ ছিল না। পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার সংলগ্ন, রাজধানী মার্কেট ও সায়েদাবাদের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে গাড়ির চাপ দেখা গেছে। আবার পান্থপথ মোচড়ে গাড়ির চাপ থাকলেও শাহবাগ কিংবা ফার্মগেটের দিকে তেমন চাপ নেই। নিউমার্কেট এলাকা ও এলিফ্যান্ট রোডে আশেপাশে যানজট থাকলেও তা বেশি নয়। এর অন্যতম কারণ, অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার চতুর্মুখী গাড়ির চাপ নেই। ফলে একদিক না একদিক দিয়ে পরিবহনগুলো চলাচল করেছে।

মৎস ভবনের সামনে নতুন সময়ের সঙ্গে কথা হয় ব্যাংকার পিয়াস আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঢাকায় ঈদ করি। আজ ঈদের কিছু কেনাকাটা করলাম। কাল অফিস শেষে বাকিটা সারবো।’
ইসলামী ব্যাংকের মহাখালী শাখায় কর্মরত পিয়াস বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) যতটা জ্যাম ছিল, আজ তেমন নেই। কাল আরও কমবে। ঈদেও আগে ও পরে দুদিন করে ঢাকা এমন ফাঁকাই থাকে। আমরা ছোট থেকেই দেখে আসছি। এসময় ঘুরতে বেশ ভালো লাগে।’
স/এষ্

