হাফিজুর রহমান হৃদয়:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান কাবিটা, টিআর, ননওয়েজ, এডিপি, অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান কর্মসূচি, এলজিএসপি-২ প্রকল্পে ও ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যাপক স্বেচ্ছারিতা, সচ্ছল ব্যক্তি ও কিছু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করে কাগজে কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করাসহ ত্রাণের টিন ও টাকা আত্মসাৎ করে নিজের ফায়দা লুটে নেয়ার বিষয়ে দুর্নীতিতে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত করছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় ১০ জনের মধ্যে বরাদ্দকৃত ১ বান্ডিল করে টিন ও ৩ হাজার করে টাকা চেয়ারম্যান ভূয়া নামে বিতরণ দেখিয়ে টিন ও টাকা আত্মসাৎ করে। প্রথম পর্যায়ের কাবিটা নারায়নপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের চৌদ্দঘুরি মোসলেমের মেম্বারের বাড়ি হতে বিজিবি ক্যা¤প হয়ে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্য ৩লাখ ৭৫ হাজার টাকার কাজ অতিদরিদ্রদের শ্রমিকের মাধ্যমে কাজ করা রাস্তায় কাবিটা প্রকল্প দেখিয়ে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক মাটি ফেলার কাজ করে কাগজে কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে বরাদ্দকৃত চেক পিআইও অফিস থেকে উত্তোলন করে নিজের ফায়দা লুটে নেয়। এছাড়াও উক্ত প্রকল্পের আওতাধীন ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে যে সোলার প্যানেল বরাদ্দ ছিলো তা না দিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে বিভিন্ন ওয়াট এর সোলার দিয়েছে। গত অর্থবছরে বিগত পরিষদের শেষ সময়ে এলজিএসপির বরাদ্দকৃত অর্থ বর্তমান চেয়ারম্যান কোনো প্রকার কাজ না করে ভূয়া মাস্টার রোল ও ভাউচার দেখিয়ে সকল অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ২শ ৮৯ টি ভিজিডি কার্ড বিতরণে প্রত্যেক মহিলার কাছ থেকে দেড় থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ গ্রহন করেছে। চেয়ারম্যান উক্ত কার্ডের মধ্যে প্রায় ৫০টি কার্ড বেনামীভাবে আত্মসাৎ করে ও ভিজিডি কার্ড বিতরণে প্রত্যেকের নিকট থেকে ৫০ টাকা ও ৩০ কেজি চালের স্থলে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণ করে। বরাদ্দে ৪৫ জন বিধবা ও ২৮২ জন বয়স্ক ভাতা কার্ডের বিনিময়েও দেড় থেকে ২ হাজার করে টাকা উৎকোচ নিয়ে কার্ড বিতরণ করে। এমনকী টাকার বিনিময়ে একই ব্যক্তির নামে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, ভিজিডি কার্ড ও ৪০ দিনের কর্মসূচিতে নাম অন্তভুক্ত করে। চলতি অর্থবছরে অতিদরিদ্রের কর্মসংস্থান এর ৪০ দিনের কর্মসূচির নামের তালিকায় সুবিধাভোগী ছিলো ৬শ ২৬জন অথচ চেয়ারম্যান ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সদস্যদের মধ্যে মাত্র ৩শ ২৫টি কার্ড সুবিধাএভাগীদের মধ্যে বিতরণ করে বাকী ৩শ ১টি কার্ড বিভিন্ন বেনামীভাবে দিয়ে সেগুলো অনুপস্থিত দেখিয়ে অগ্রনী ব্যাংকের নাগেশ্বরী শাখার ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে যোগসাজোস করে ২৪ লাখ টাকা টাকা আত্মসাৎ করে। এ বিষয়ে ওই ইউনিয়নেরে আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা করেছে চেয়ারম্যান, তার ভাই ও তার লোকজন। এতে ওই ইউনিয়নের আওয়া মীলীগ সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানসহ ১০জন আহত হয়েছে। আহতদের ২জন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে স্থানীয়রা। ঘটনায় মশিউর রহমানের ছোট ভাই শাহালম বাদী হয়ে ১২জনকে আসামি করে কচাকাটা থানায় মামলা করলে সারোয়ার হোসেন ও আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এভাবেই দিনের পর দিন অনিয়ম করে চেয়ারম্যান নিজের পকেট ভারি করে বাড়ি গাড়ি করে টাকার পাহাড় করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও ১৮ জুন তার এই সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় দুর্নীতিবাজ ও অত্যাচারী শাসক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষপ কামনা করছে এলাকাবসী। চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদকে শতকরা ২০ভাগ ও পিআইওকে ম্যানেজ করাসহ মাস্টার রোল অন্যান্য খরচ করে প্রকল্পের কাজ করতে হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবিএম আকরাম হোসেন বলেন, যে কোনো প্রকল্পের কাজে কিছুটা অনিয়ম হতে পারে। সেগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হায়াত মো. রহমতুল¬াহ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের নিকট এর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/এষ্

