নিহত এএসপি মিজানুর রহমানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।
মিজানুরের শরীরে ‘সায়ানোসিস’ছিল। আর সায়ানোসিস মানে শ্বাসরোধের কারণে শরীরের অক্সিজেন কমে যাওয়া ও শরীর নীল হয়ে যায়। নিহত মিজানের গলার চারপাশে একটা হোল কালো দাগ ছিল। সবকিছু মিলিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে বলছেন নাম প্রকাশে একাধিক চিকিৎসক।
এদিকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের মৃত্যু নিঃসন্দেহে হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক। বৃহস্পতিবার গুলশানের পুলিশ প্লাজা মার্কেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার রাজধানীর রূপনগর থানাধীন মিরপুর বেড়িবাঁধের বোটক্লাব এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে এএসপি মিজানুর রহমান তালুকদারের (৫০) লাশ উদ্ধার করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়রা একটি ঝোপে তার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ডিএমপির রূপনগর ও সাভার থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার সকাল এএসপি মিজানুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের প্রভাসক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস।
ডা. প্রদীপ বিশ্বাস জানান, নিহত মিজানের শরীরে সায়ানোসিস ছিল। তার গলার চারপাশে একটা গোল কালো দাগও ছিল। মাথায়, বাম হাতে ও দুই পায়ে লাঠি বা শক্ত কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া দুই গাল ও বুকের ওপরের অংশেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যেসব জায়গায় আঘাত করা হয়েছে সেখানে রক্ত জমে গিয়েছিল। তবে তার চোখ ঠিক ছিল। শরীরে কোনো বিষাক্ত পদার্থ আছে কিনা সেজন্য তার ভিসেরা (লিভার, কিডনি, স্টোমাক) সংরক্ষণ করেছি।
তিনি আরো জানান, নিয়ম অনুযায়ী ভিসেরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারাই সেগুলো মহাখালী রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠাবে। রাসায়নিক পরীক্ষাগার থেকে প্রতিবেদন এলে তারাও তাদের প্রতিবেদন জমা দেবেন বলে জানান তিনি।
স/এষ্

