বিশেষ প্রতিনিধি, মাহাবুবুর রহমান খোকন, কার্ডিফ থেকে :
বাংলাদেশ ক্রিকেটে সবচেয়ে সফল, সবচেয়ে আলোচিত, সবচেয়ে সমালোচিত ব্যক্তির নাম সাকিব আল হাসান। এ দেশের দর্শকের ক্রিকেটের প্রতি আবেগ একটু বেশিই কিনা তাই সামান্য অফ ফর্মেও সমালোচনার ঝড় শুরু হয়ে যায় যেকোন খেলোয়াড়ের প্রতিই। আর ব্যক্তিটি যখন সাকিব আল হাসান, সেই সমালোচনার পরিমাণ টাও হবে বেশি।
সাকিব আল হাসান এবং অফ-ফর্ম শব্দ দুটি একই বাক্যে একটু দৃষ্টিকটুই লাগে। কারণ গত দশ বছরে প্রায় নয় বছর সময় ধরে সাকিব আল হাসান কে অফ ফর্মে দেখা যায়নি বললেই চলে। কোন
ম্যাচে রান পান নি তো উইকেট নিয়ে পুষিয়ে দিয়েছেন, উইকেট পাননি তো রান করে অবদান রেখেছেন, ফিল্ডিং এ বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এই সাকিব। অথচ গত কয়েক সিরিজেই উইকেট খরায় যেমন ভুগেছেন, তেমনি ঠিক মিলছিল না ব্যাটে বলেও। কেউ কেউ তো সাকিব অধ্যায়ের সমাপ্তিই টেনে দিয়েছেন ইতোমধ্যে। আবার তাঁর বিকল্প খোজার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল।আর মাহমুদউল্লাহ – তিনি তো পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই ছিলেন অন্যের ছায়া হয়ে। লাইম লাইটে ২০১৫ বিশ্বকাপ ছাড়া আর আসেন নি কখনও। বাংলাদেশের সব জয়ের ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পাশাপাশি যদি পার্শ্বনায়কের রেকর্ডও থাকত তবে রিয়াদের নামটাই বোধহয় সবচেয়ে বেশি আসবে। নিভৃতে তিনি যতটা ভরসায় আগলে রেখেছেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডার , ঠিক ততটাই যে কোন ভুলে নির্মম সমালোচনার শিকার হয়েছেন বারবার।তবে আজ সমালোচক দের মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছেন সাকিব-রিয়াদ দুজনেই। নিউজিল্যান্ড বোলিংয়ের মুখে ধুকতে থাকা বাংলাদেশ ব্যাটিং কে ধ্বংসস্তুপ থেকে তুলে দাড় করিয়েছেন তাঁরা। দুজনই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। ২২৪ রানের বিশাল এক পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা; যা পঞ্চম উইকেট জুটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে চতুর্থ স্থানে আছে।বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোন উইকেটেই এটা সর্বোচ্চ। সাকিব ১১৪ করে আউট হয়েছেন, মাহমুদউল্লাহ করেছেন ১০২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। দু’জনে প্রায় সমান অবদান রাখলেও কয়েকটি রান বেশি করার সুবাদে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হয়েছেন সাকিব আল হাসানই।তবে, এই জয়ে রিয়াদকে কোন ভাবেই পার্শ্বনায়কের চরিত্রে রাখা যাবে না । তাঁরা দু’জনই আমাদের এই জয়ের প্রধান চরিত্র। এর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল ১৭৮ রানের। ২০১৫ সালে তামিম ও মুশফিক এই কীর্তি গড়েছিলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে।সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর রান বন্যার এই দিনে নিজেরদের প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফি তে প্রথম জয় পেয়েছে বাংলাদেশ প্রথম দু’টি ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হার এবং বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার কাছে লজ্জাজনক হার থেকে বেঁচে যাওয়ার পর এই ম্যাচটি ছিল বাঁচা মরার লড়াই।এই ম্যাচে জিতে সেমি ফাইনালে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সেমি ফাইনালে যাওয়া হবে কিনা তার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের রেজাল্টের। তবে আজকের জয়ে একবারে খালি হাতে ফিরছে না বাংলাদেশ।
স/এষ্

