ঢাকামঙ্গলবার , ৬ জুন ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

নবাবগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে তাঁতরা ব্যস্ত সময় পার করছে

admin
জুন ৬, ২০১৭ ৮:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সাদের হোসেন বুলু, নবাবগঞ্জ 

আর মাত্র ১৯ দিন পর মুসলিম জাহানের সব চাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের নতুন জামা-কাপড়ের মধ্যে লুঙ্গিও একটি অন্যতম পরিধেয় বস্ত্র। তাই ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার তাঁত শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জানা গেছে, দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার হাতে বোনা লুঙ্গির সুনাম দেশজুড়ে। বিশেষ করে দোহারের জয়পাড়ার লুঙ্গি দেশের গন্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে বিদেশে। প্রায় ১০০ বছর আগে তাঁতে বোনা লুঙ্গির গোড়াপত্তন হয়েছিল এখানে। সেই থেকে নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লুঙ্গি তৈরি করে চলেছেন তাঁতিরা।

স্থানীয় তাঁতীরা জানান, সুতার মূল্য বৃদ্ধি, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি, যুবকদের বিদেশ গমণ ও পাওয়ার লুম যন্ত্র স্থাপনের ফলে জয়পাড়া এলাকার অনেক তাঁতি পরিবারই তাঁতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। সারাদেশে লুঙ্গির যে ক’টি হাট রয়েছে, তার মধ্যে জয়পাড়ার লুঙ্গির হাট ছিল প্রসিদ্ধ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা লুঙ্গি কিনতে ছুটে আসেতো এই হাটে। তবুও থেমে নেই হাতে বোনা তাঁতের লুঙ্গির চাহিদা। বর্তমানে দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারত,মালয়েশিয়া,যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের লুঙ্গি।

নবাবগঞ্জের কলাকোপা গ্রামের তাঁত শ্রমিক আব্দুল কাদের জানান, প্রায় চার দিন ৮০ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তৈরি হয় এক ভিম (ছয়টি) লুঙ্গি। প্রতিটি ভিমের দাম পাইকারী মূল্যে ২৪শ’ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। চেক লুঙ্গি, খারা স্টেপ লুঙ্গি ও একক সাদা লুঙ্গিসহ বিভিন্ন রংয়ের চোখ ধাঁধাঁনো লুঙ্গি তৈরি হয়ে থাকে। তাছাড়া সব শ্রেণী পেশার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী লু্িঙ্গ তৈরী করে থাকে কারিগররা। প্রতিটি লুঙ্গি বিক্রি হয় ৬০০ থেকে ১৮শত টাকা পর্যন্ত। মানভেদে লুঙ্গির দাম কমবেশিও হয়ে থাকে। তবে তাঁতিরা বেশি বুনছেন ৬০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা দামের লুঙ্গি। তবে ঈদের আগে বাজারে লুঙ্গির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়।

দোহারের তাঁতি মোজ্জামেল জানান, এ অঞ্চলের তাঁতে বোনানো লুঙ্গি আরামদায়ক ও টেকসই বেশি হওয়ায় সারাদেশে এর কদর। তাই নকলের ভিড়ে দোহারের লুঙ্গির চাহিদা সব সময়ই সমান। ইকরাশী সড়ক পাড় গ্রামের তাঁতি আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদ এলেই লুঙ্গির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই তাঁতীরা আগ্রহ নিয়ে লুঙ্গি বুনে।

জয়পাড়া লুঙ্গির এক ক্রেতা মো.জুবায়ের জানান, অন্য লুঙ্গির তুলনায় জয়পাড়ার লুঙ্গি পড়তে আরামদায়ক রংও পাকা। বেশী টেকসই হওয়ায় চাহিদাও বেশি।

দোহারের মেঘুলা তাঁতপল্লীর এক নারী কারিগররা জানান, তাঁত পরিবারের নারীরা সাধারণত সুতা কাড়ানোর কাজ করে থাকে। সেই শিশুকাল থেকে বাবার বাড়িতে কাজ শিখেছেন। স্বামীর সংসারে এসেও তাঁতের কাজ করছেন। প্রতিবেশি বাড়ির সুতা কাড়ানোর কাজ করে নিজেদের হাত খরচও চালান তাঁতপল্লীর গৃহিণীরা।

দোহার উপজেলা জয়পাড়ার একটি তাঁত কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শ্রমিক তাঁত থেকে লুঙ্গি নামিয়ে মোলায়েম করার জন্য প্রসেস করছেন। কেউবা ছুটছেন লুঙ্গি সেলাই করতে, আবার কেউ বা ভাঁজ করে তাতে স্টিকার সেঁটে লুঙ্গির বান্ডিল তৈরি করছেন।

স্থানীয় তাঁতীদের অভিযোগ, সুতার মূল্য ও শ্রমিকদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। সে হিসেবে বাড়েনি লুঙ্গির দাম। ফলে ঈদের সময় ছাড়া এ ব্যবসায় সুবিধা করতে পারছে না তাঁতশিল্প মালিকরা।

দোহার-নবাবগঞ্জ উইভার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, এঅঞ্চলের লুঙ্গি দেশের ব্রান্ড। তাই অসাধু ব্যবসায়ীরা পাবনার লুঙ্গিকে দোহারের লুঙ্গি বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এ ধরণের কর্মকান্ড প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাঁতে বোনা লুঙ্গি এক সময় হারিয়ে যাবে। তারপরও শত বাধা-বিপত্তি উপক্ষো করে স্থানীয় তাঁতিরা লুঙ্গি তৈরি করছেন নিজেদের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে।

ছবির ক্যাপশন: ছবিটি ইকরাশী সড়কপাড় গ্রামের তাঁতি আনোয়ার হোসেনের। তিনি ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ছবিটি সম্পতি তোলা।

স/এষ্