সংবাদ সম্মেলন
নন্দীগ্রাম(বগুড়া): থানায় যোগদানের পর থেকেই ঘুষ বাণিজ্য, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, মামলা না নেয়াসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার ওসি আবদুর রাজ্জাক ও এসআই মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সাংবাদিককে ফাঁসানোর চেষ্টা, একই মামলায় বাদী-বিবাদীর কাছ থেকে ঘুষ গ্রহন সহ শতশত অভিযোগ রয়েছে। নিরাপরাধ লোকজনকে ধরে টাকার জন্য হয়রানি, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে আসামিদের পক্ষ নেওয়া, খারাপ আচরণ করাও স্বাভাবিক ঘটনা।
শুক্রবার বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে নন্দীগ্রামের কহুলী গ্রামের মোহাম্মদ আলী মণ্ডলের মেয়ে আঞ্জুয়ারা বেগম নামে এক নারী এ অভিযোগ করেন। ঘুষ দিন, সেবা নিন। ওসি আবদুর রাজ্জাক ও এসআই মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা রেকর্ড এবং আসামি গ্রেফতারের নামে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আঞ্জুয়ারা বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, পুলিশের ফিটিং বানিজ্য, ব্লাকমেইল, ওপেনে ঘুষ বাণিজ্য ও বেপরোয়া বিতর্কীত কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আনুরোধ করেছেন। আঞ্জুয়ারা বেগম আরও অভিযোগ করেন, ৯ মে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা করতে গেলে ওসি আবদুর রাজ্জাক ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। ১১ মে অনেক কষ্টে সংগ্রহ করা ১০ হাজার টাকা দিলে ওসি মামলা নেন। পরদিন থানায় গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মনিরুল ইসলাম আসামি গ্রেফতারের বিনিময়ে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। বাড়ি থেকে ধারকর্জ করে আড়াই হাজার টাকা এনে তাকে দিলে আসামি ধরার আশ্বাস দেন। গ্রেফতার করা হয়নি। থানায় গেলে এসআই মনিরুল ইসলাম হুমকি দিয়ে বলে, এমন মামলা দেব যাতে সারাজীবন জেলে থাকতে হবে। এনিয়ে বিভিন্ন মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ওসি আবদুর রাজ্জাক তার ও এসআই মনিরুল ঘুষ নেয়ার অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেন।
অভিযোগ রয়েছে, মাদকসহ আটক হলে ওসি রাজ্জাক এবং এসআই মনিরুল জুটির সাথে রফাদফা করলে মাদকের পরিমাণ যায় কমে। মাদক ব্যবসায়ীদের সেবনকারী সাজিয়ে দেওয়ার বাণিজ্য অন্যতম ভূমিকায় থাকেন এই বিতর্কীত দুই পুলিশ কর্মকর্তা। মাদক উদ্ধারের নামে অর্থ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। নিরিহ লোকজনকে মাদকের মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। এমন অভিযোগ করেছে বেশ কয়েকজন যুবক। বলা হয়- টাকা না দিলে ইয়াবা মামলায় চালান দেয়া হবে।
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দৈনিক ভোরের ডাক নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক নজরুল ইসলামকে মিথ্যা অপবাদ ‘তথ্যদাতা’ আখ্যা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের খেপিয়ে তোলে ওসি রাজ্জাক এবং এসআই মনিরুল। ৮মাস এলাকাছাড়া থাকার পরেও এখনো স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ড নন্দীগ্রাম সদরে প্রবেশে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন সাংবাদিক নজরুল। এসআই মনিরুল প্রকাশ্যে জনসম্মুখে বলেছে সাংবাদিক নজরুল পুলিশের তথ্যদাতা। মিথ্যা একটি মামলা দেয়া নজরুলের বিরুদ্ধে। সেই মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। থানার মধ্যে ওসি’র কক্ষমুখে পুলিশের সামনে সাংবাদিক নজরুলের উপর হামলা ও মারপিটের ঘটনায় একটি মামলা আদালতে বিচারাধিন।
নজরুল ইসলাম বলেন, কি কারনে আমার উপর ক্ষিপ্ত, তা আমার অজানা। এসআই মনিরুল আমাকে হুমকি দিয়েছে। আমিসহ আমার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে চায়। অপরাধীদের সাথে পুলিশ কর্মকর্তার ফোন থেকে কৌশলে কথা বলিয়ে অডিও রেকর্ড করে অডিওর ভয় দেখিয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ করতে নিষেধ করেছে। বিষয়টি পুলিশ ও র্যাবের উর্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিত-মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। এবিষয়ে গত ৫অক্টোবর নন্দীগ্রাম থানায় (জিডি নং- ৭০২/১৬) করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন জনপ্রতিনিধি বলেন, সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা থেকে সচেতন ব্যক্তি নজরুল সমাজকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। সাংবাদিক নজরুলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে ওসি রাজ্জাক এবং এসআই মনিরুল। এটা দুঃখজনক হলেও সত্য। এতে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আনুরোধ।
স/এষ্

