চমক প্রতিনিধি : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে নিয়োগ পাওয়া একজন মহিলার চাকরী নতুন করে অবৈধভাবে স্থায়ী করার জন্য কতিপয় দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি উঠে পড়ে লেগেছে। কোন ক্ষমতার বলে মহিলার চাকরী স্থায়ী করা হচ্ছে? এটা এখন অনেকেরই প্রশ্ন। এই মহিলা হলেন লাইলী খানম। কর্ণেল মালেক ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রশাসক থাকাকালে তার এলাকা মানিকগঞ্জের মেয়ে হিসেবে ৩১.০৭.৮৮ ইং তারিখে তাকে পরিসংখ্যান বিভাগে নিয়োগের নির্দেশ দেন। কোন প্রকার বিজ্ঞাপন ছাড়াই। কোন প্রকার লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই একদিনের আদেশে একদিনেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। তদানিন্তন প্রশাসক কর্ণেল মালেক “পদ খালি থাকিলে নিয়োগ করুন” লিখে তিনি তদানিন্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই মর্মে অবৈধ নির্দেশ দেন। এরপর লাইলী খানমকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কর্ণেল মালেকের ঐ বেআইনী আদেশই সে সময়ের নতজানু পদলেহী কর্মকর্তারা হালাল করে নেন। বর্তমানে সময় পর্যন্ত একই ধারা অব্যাহত থাকে।
পরিসংখ্যান কর্মী হিসেবে সম্পূর্ন অবৈধ উপায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েও লাইলী খানমের বড় শখ: বড় আগ্রহ রাজস্ব বিভাগের প্রতি। অনেক চেষ্টা তদবির করে পরবর্তীতে তিনি তার প্রতিবেশী উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আখতারুজ্জামানকে ‘খুশি’ করে রাজস্ব বিভাগের উপকর কর্মকর্তার চেয়ারে এসে বসেন। এই অপরাধ- দুনীর্তি ও আরও কিছু অপরাধে আখতাররুজ্জামান এর বিরূদ্ধে সরকার মামলা ও ধর- পাকড় শুরু করলে আখতারুজ্জামান এই লোভনীয় চাকরী ছেড়ে স্বপরিবারে আমেরিকা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেখানে এখন তিনি রাস্তায় রাস্তায় পত্রিকার হকারের কাজ করে পেট চালান। এদিকে অবৈধ উপায়ে নিয়োগ প্রাপ্ত লাইলী খানম সিটি কর্পোরেশনের কিছু দুশ্চরিত্রের কর্মকর্তাকে হাত করে উপ-কর কর্মকর্তার পদে তাকে আত্মীকরণের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালায়। ডিটিও-র চেয়ারে বসে সে এযাবৎ সিটি কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বিভিন্ন মার্কেটে নামে- বেনামে সিটি কর্পোরেশনের দোকান হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরূদ্ধে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ও দেশে গড়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়। সিটি কর্পোরেশনের চেয়ার বসে ঘুষ ছাড়া তিনি কোন ফাইল ছাড়েন না। বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। অবৈধ নিয়োগের পর থেকে সিটি কর্পোরেশনে পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কোন প্রয়োজন না থাকায় এই লাইলীকে দিয়ে সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাগন তার দপ্তওে রেখে কেরানীর কাজ করাত। খাতায় ফাইল এন্ট্রি করে ফাইল প্রতি ঘুষের টাকা গুনে নেওয়াই ছিল তার মূল দায়িত্ব। গত ২৮.১২.২০২ইং তারিখে সরকার ১,৮৫৮ টি পদ ডিএনসিসির জন্য অনুমোদন করেন এবং অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া এই লাইলী খানমের পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদটিও সরকার বিলুপ্ত করে দেন। এরপরও কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজ ও অসৎ কর্মকর্তা সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে উপ-কর কর্মকর্তার চেয়ারে বসিয়ে ডিএনসিসির ফান্ড থেকে থেকে লাখ লাখ টাকা বেতন ভাতা দিয়ে যাচ্ছেন, এর দায়-দায়িত্ব বর্তমানে হিসাববিভাগ, অডিট বিভাগ ও প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানান। ইতোমধ্যে তাকে রাজস্ব বিভাগে আত্মীকরণ করার জন্য সদ্য বদলিকৃত প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ মমতাজ উদ্দিন জোড় প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন সিটি কর্পোরেশনের বিলুপ্ত পদের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা- কর্মচারী জানিয়েছেন অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া লাইলী খানমকে আত্মীকরণ করা হলে বৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত তাদেরও আত্মীকরণ করতে হবে। গত ১৫.০৯.২০১৬ইং তারিখে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তার আত্মীকরণের বিষয়টি নাকচ করে দিলে প্রশাসন কর্তৃক নাকচ হওয়া সত্ত্বেও নথিটি পুনরায় আইন শাখায় পাঠোনো হয়। সেখানে আইন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে একজন প্যানেল উকিলকে দিয়ে মন্তব্য লিখে লাইলী খানমের অবৈধ নিয়োগের নথিটি পুনরায় প্রশাসনে পাঠোনো হয়। লাইলী খানমকে আত্মীকরণ করা হলে শত শত পদ বঞ্চিত কর্মচারী মাঠে নামবেন বলে জানান, তারা। অবিলম্বে লাইলী খানমের অবৈধ নিয়োগের নথিটি দদুকে পাঠিয়ে ডিএনসিসি থেকে হাতিয়ে নেয়ো লাখ লাখ টাকা তার কবল থেকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন এদিকে তিনি সরকারের উক্ত টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য জোড় তদবির চালাচ্ছেন। লাইলীর মত অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া সাজেদা সুলতানা সীমা ও রাজস্ব বিভাগের মিজানের নথি দুদক আটক করেছে। এরাও সাবেক মেয়র খোকার নির্দেশে কোন প্রকার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই একদিনের আদেশেই চাকুরী পেয়েছেন। রাজস্ব বিভাগের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান আমেরিকায় পালিয়ে যান। বিতর্কিত সীমা মিজান ও পলাতক আক্তারুজ্জামান আবার রাজস্ব বিভাগে আসতে টাকা ব্যায় শুরু করে দিয়েছেন। একজন টাইপিষ্টের বিধবা স্ত্রী সীমাকে বাড়ি গাড়ী সহ বিপুল সুবিধা দিয়ে রাজস্ব বিভাগের ও প্রশাসনের এখন একাধিক ডিএনসিসির সাবেক কর্মকর্তা দুদকের বারান্দায় ধরনা দিচ্ছেন।
স/ এষ্

