ঢাকারবিবার , ৬ আগস্ট ২০২৩
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

চট্টগ্রামে ডুবন্ত শহরের অলিগলিতে বোবা কান্না

admin
আগস্ট ৬, ২০২৩ ৯:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চট্টগ্রামে ডুবন্ত শহরের অলিগলিতে বোবা কান্না

* বৃষ্টি হলেই ডুববে চট্টগ্রাম
* বারবার পানি ওঠায় পণ্য পচে লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়ীদের
* বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নেও মিলছে না সুফল
* নদী ও খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ।। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবেছে নগরীর নিম্নাঞ্চল। এই নিয়ে টানা তিনদিন জোয়ার ও বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ ছিল নগরবাসীর।

আগের দিনের ন্যায় গতকালও শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি তলিয়ে যায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে। দোকানপাট ও বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। এতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন সবাই।

বাসা-বাড়ির নিচতলা এবং বিভিন্ন কলোনিতে পানি ঢুকে যাওয়ায় নষ্ট হয় আসবাবপত্র। ব্যাহত হয় রান্না। এছাড়া গতকাল আদালত ও সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস, শিল্প ও কলকারখানা খোলা ছিল।

সকালের জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন কর্মস্থলমুখী লোকজন। পানির অজুহাতে বাড়তি ভাড়া দাবি করে রিকশা ও সিএনজি চালকরা।

এদিকে গত দুইদিনের জলাবদ্ধতায় রেয়াজুদ্দিন বাজারের প্রায় ২৫০ দোকানে পানি ঢুকে ক্ষতি হয় দেড় কোটি টাকার। গত শুক্রবার দিনগত রাতে থেমে থেমে কয়েক দফা বৃষ্টি হয়েছে নগরে। তবে এই জন্য সিডিএ-কে দুষলেন চসিক মেয়র মো. রেজাউল কমিন চৌধুরী।

মেয়র বলেন, যত দোষ নন্দ ঘোষ, সব মেয়রের দোষ। কিন্তু এ মেগা প্রকল্পে তো মেয়রের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ প্রকল্পে কিছু করার মতো ক্ষমতাও নেই মেয়রের।

তিনি বলেন, শুধু খালের দুই পাড়ে ওয়াল দিলে হবে না। খাল থেকে মাটি তুলতে হবে। আমাদের এই অঞ্চলে বিশেষ করে চান্দগাঁও ও বাকলিয়াসহ আশেপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণ হচ্ছে, এখানে ভরাট হয়ে থাকায় খাল দিয়ে পানি ঠিকভাবে যেতে পারছে না। এখানে চাক্তাই খাল ও বীর্জা খালসহ অন্যান্য খালগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

তারা একেকটা খাল কতটা গভীর করেছে তা জনগণের জানার অধিকার আছে। প্রকল্পের ডিপিপি’তে ২০ কোটি কিউবেক মাটি উত্তোলনের কথা লেখা আছে। সে পরিমাণ মাটি তুলেছে? মাটি উত্তোলন করা না হলে প্রকল্পের সাফল্য আসবে না।

সিডিএ সমন্বয় করছে না অভিযোগ করে মেয়র বলেন, যে ওয়ার্ডে কাজ (মেগা প্রকল্পের) করবে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম।

সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলেছি। তারা (সিডিএ) তো কর্পোরেশনকে কোনো কিছু জানায়নি। তারা তাদের ইচ্ছেমত কাজ করছে। এত বড় প্রকল্প, চট্টগ্রামবাসীর বাঁচা-মরার প্রশ্ন, এরপরও তারা সমন্বয় করছে না।

স্থানীয়রা জানান, সকালের বৃষ্টিতে দেওয়ান বাজার, খলিফাপট্টি, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেইট, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বাকলিয়ার বিভিন্ন এলাকা, ফিরিঙ্গিবাজারের একাংশ, শান্তিবাগ আবাসিক এলাকা, কে বি আমান আলী রোড, চান্দগাঁওয়ের শমসের পাড়া, ফরিদার পাড়া, পাঠাইন্যাগোদা, মুন্সীপুকুর পাড়, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, তিন পুলের মাথা, রিয়াজুদ্দিন বাজার, মুরাদপুর, চাক্তঠন-খাতুনঞ্জের নিচু এলাকা, ফুলতলা, ডিসি রোড, চকবাজার, চকবাজার কাঁচাবাজার, মোহাম্মদ আলী শাহ দরগাহ লেইন, হাসমত মুন্সেফ লেন, নাজিরপাড়া, সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা, কালারপোল, বড়পোল এলাকা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, কমার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকা, হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায় পানিতে। গত রাত ১০টার দিকেও চকবাজার ফালাহ গাজী মসজিদ রোড, বাকলিয়া ডিসি রোডসহ আশপাশে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।

কায়সার আহমেদ নামে এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, সামান্য জোয়ারের পানিতেও আমরা ডুবে যাই। এমন কেন হবে? এটা তো বাণিজ্যিক রাজধানী, বন্দরনগরী। দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরের এ অবস্থা কেন হবে? যুগ যুগ ধরে বর্ষায় আমরা কেন কষ্ট ভোগ করব? এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার কি নেই?

রেয়াজুদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির কার্যকরী সদস্য এস এম মিজানুর রহমান বলেন, দুইদিনের বৃষ্টিতে রেয়াজুদ্দিন বাজারের ২০০ থেকে ২৫০ দোকানে পানি ঢুকে গেছে। গোলাম রসুল মার্কেট ও বাহার লেইনে বেশি ক্ষতি হয়। পুরো রেয়াজুদ্দিন বাজারে যাদের দোকানে পানি ঢুকে তাদের দুই থেকে চার লাখ টাকা করে ক্ষতি হয়। সবমিলিয়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, স্টেশন রোডে নির্মাণাধীন নালার কাজ চলছে। সেখানে মাঝেমধ্যে বাঁধ আছে। এতে বাধাগ্রস্ত হয়ে চৈতন্যগলি এলাকার পানিও রেয়াজুদ্দিন বাজারে চলে আসে। রেয়াজুদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ীদের এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে হকার মার্কেটের নালা পরিষ্কার করার প্রতিও জোর দেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

স/এষ্