ব্যাপক গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥
গত কয়েকদিনের প্রচ- গরমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পাখা পল্লীর কারিগর ও পাইকার ব্যবসায়ীদের পাখার ব্যবসা বেড়েছে দারুনভাবে। গরমের কারনে পাখা বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় পাখা প্রতি দাম বেড়েছে ৫/৬ টাকা করে। অবশ্য খুচরা বিক্রেতাদের পাখা প্রতি লাভ হচ্ছে ৮/১০ টাকা। এতে তাদের ভাগ্যেও পরিবর্তন এসেছে। বেশ কয়েকজন পাইকার ও কারিগরদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানাগেছে।
কালীগঞ্জের পাখা পল্লী খ্যাত দুলালমুন্দিয়ায় সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, গরমের কারনে তাদের পাখা বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুনে। বর্তমানে তারা পাখা তৈরির সময়ও তেমন একটা পাচ্ছেন না। অনেকের বাড়িতে তালপাতা ফুরিয়ে গেছে। যার কারনে তারা পাখা তৈরি করতে পারছেননা।
এলাকার পাইকার পাখা ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন জানান, গত ৩/৪ দিন ধরে ব্যাপক গরম পড়ার কারনে তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত পাখার অর্ডার পাচ্ছেন। কিন্তু কারিগররা পাখা তৈরি করে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহ করতে পারছে না।
বিল্লাল হোসেন আরো জানান, তার পিতা মজনুর রহমান ও তিন ভাই পারিবারিক সূত্রে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পাখার ব্যবসা করছেন। এ ব্যবসা করে তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছলও হয়েছেন। পিতার কাছ পাখার ব্যবসা শিখে তারা এখনো পাখার ব্যবসা ধরে রেখেছন। বছরে তারা আনুমানিক ৫ লক্ষাধিক টাকার পাখার ব্যবসা করেন বলে জানান। এ ব্যবসার সফলতার স্বরুপ তারা ১০ বিঘা জমি কিনেছেন। মাটির বাড়ি থেকে তৈরি করেছেন ফ্লাট বাড়ি।
তিনি আরো জানান, পাখা তৈরি করে ঘরে তিন মাসে বেশি সময় রাখা যায় না। কারন তাতে বাশেঁর শলা ও তাল পাতার রং নষ্ট হয়ে যায়। শীতের মৌসুম থেকে কারিগররা পাখা তৈরি শুরু করে। তাদের কাছ থেকে পাইকার ব্যবসায়ীরা পাখা কিনে গোডাউন ভর্তি করে রাখেন। চলতি বছরের প্রথম দিকে পাইকার ব্যবসায়ী একটু হতাশ ছিলেন পাখা কম বিক্রি হওয়ার কারনে। কিন্তু গত কয়েকদিনের প্রচন্ড গরম আর বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে পাখার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তিনি তার গোডাউনের সব পাখা ইতিমধ্যে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, ঝিকরগাছা, আলমডাঙ্গাসব বেশ কয়েক জেলা ও উপজেলা শহরে বিক্রি করেছেন। এখনো প্রতিদিন শত শত পাখার অর্ডার আসছে।
স/এষ্

