মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্থিতাবস্থা
তাপস কুমার, নাটোর:
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা নিয়ে উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশের পর পরই নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া ও গুরুদাসপুর উপজেলার দুর্গম এলাকায় অতিথি পাখী ও মৎস্য শিকার, পুকুর খনন এবং নানা অনাচারসহ অবৈধ দখলের প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে। ফলে বিলাঞ্চলের মানুষ একদিকে পড়েছে নানা শংকায়। অপরদিকে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে।
মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলে বর্তমানে মাছের প্রজনন সময়। এই সময় অতিথি পাখির আনা গোনা দেখা যায় চলনবিলে। বর্ষা ও বন্যার পানি প্রবেশ করে এসময় চলনবিলের চারিদিকে সমুদ্রের রুপ ধারন করে। সৌন্দর্য্য মন্ডিত চলনবিলের দুর্গম এলাকায় এসময় বৈশাখী মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসে। কিন্তু সম্প্রতি উচ্চ আদালত নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় স্থিতাবস্থা জারি করায় চলনবিলে শুরু হয়েছে নির্বিকারে মা মাছ নিধন, অতিথি পাখি শিকার, পুকুর খনন, অবৈধ দখল, মাদক দ্রব্য সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দের জারির পর প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে করে শংকিত হয়ে পড়ছে বিলাঞ্চলের মানুষ।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান জানান, নাটোরের সিংড়ার অধিকাংশ এলাকা চলনবিলবেষ্টিত দুর্গম এবং মৎস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। আর এবার চলনবিলে আগাম বন্যার কারণে এসময়টা মাছের প্রজনন কাল। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা স্থগিত করায় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি নির্বিচারে মা মাছ শিকার সহ জীববৈচিত্র্য নষ্ট করছে। অবাধে মাছ নিধন করায় মাছের বংশ বৃদ্ধিতে বাধার সৃষ্টি করবে । এসব অসাধু মুনাফাখোরদের কারনে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ চলনবিল থেকে বিলুপ্তিরও সম্ভাবনা রয়েছে। এবার আগাম বন্যার পানি আসায় চলনবিলের কিছু এলাকায় অবাধে বক ও বালিহাসসহ অতিথি পাখির আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। অবৈধভাবে পাখি শিকারের বিষয় তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করছেন।
হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের কলিগ্রামের তাইজুল ইসলাম, আহমেদ আলী জানান, শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের হাতিয়ান্দহ এলাকায় অবৈধ ভাবে পুকুর খনন, বৈশাখী মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এবিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ, গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। এতে করে এলাকায় দিন দিন আরো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল আহসান জানান, সম্প্রতি আদালতের রায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। উপজেলায় অবৈধ দখল, পুকুর খনন, মাদকদ্রব্য বিক্রয় ও সেবন, খাদ্যে ভেজাল, চলনবিলের অতিথি পাখি শিকার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসককে অবহিত করে তথ্য প্রেরণ করেছেন।
জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, বিলাঞ্চলের নানা অপরাধ ও অনাচারের বিষয়টি তিনি অবগত থাকলেও আদালতের পরবর্তী নির্দেশ ছাড়া তাদের করনীয় কিছুই নেই। তবে তিনি এলাকার মানুষদের পুলিশের সহায়তার পরামর্শ দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, জংঙ্গি তৎপরতা রোধ সহ সামাজিক অপরাধ নিধন কাজে পুলিশকে বেশী সময় দিতে হচ্ছ্। এমনিতেই পুলিশের জনবল কম। সেখানে পোনা মাছ রক্ষার কাজে পুলিশ পাঠানো সম্ভব হয়না। তবুও সংবাদ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
স/এষ্

