তাপস কুমার, নাটোর:
শষ্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিলের সিংড়ায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ দিকে বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চলনবিলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলার ডাহিয়া, ইটালি, তাজপুর, শেরকোল ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ভুট্টার আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে এসকে ৪০, প্যাসিফিক, মুকুট, এলিট, সুপার ফাইন জাতের ভুট্টার আবাদ বেশি হয়েছে। এছাড়াও চৌগ্রাম, হাতিয়ানদহ, চামারী ও লালোর ইউনিয়নে তুলনামূলক ভাবে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। চলনবিলে উৎপাদিত ভুট্টার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদফতরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর উপজেলায় চলতি বছরে উপজেলায় ১হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ বেশি হয়েছে। এ বছর মোট ১হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৬০ হেক্টর ভুট্টার জমিতে আগাম বন্যার পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা আংশিক ক্ষতিগ্রস্থের স্বীকার হয়েছে। গত বছর উপজেলায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল। জানা যায়, শস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিলের সিংড়া উপজেলার কৃষকরা বোরো ধানের পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে ভুট্টা আবাদ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভুট্টা আবাদের উপর তেমন প্রভাব পরে না এবং সার তেল সহ অন্যান্য খরচ কম হওয়ার কারণে ভুট্টা চাষে কৃষকরা দিনদিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। তবে আগাম বন্যায় কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কৃষকরা। গত বছর ভুট্টার আবাদ করে বাম্পার ফলন ও কাঙ্খিত বাজার মূল্য না পেয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে গতবারের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলেছেন কৃষকরা। এবার কাঁচাভেজা ভুট্টা প্রতি মণ ৪২০ টাকা থেকে ৫শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুকনো ভুট্টা প্রতি মণ ৬৫০ টাকা থেকে ৭শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে গতবারের চেয়ে বেশি দাম পেয়ে কৃষকরা খুশি। উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ভুট্টা চাষী মিন্টু জানান, এ বছর ১০বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। বাজারে কাঁচা ভেজা প্রতি মণ ভুট্টা ৪শ’ থেকে সাড়ে সাড়ে ৫শ’ টাকা দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদে তেল,কীটনাশক সহ প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের খায়রুল জানান, এবার ভালো ফলন হচ্ছে,বাজার দরও ভালো। তিনি আরো জানান, ৭বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে সাড়ে ৬হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০মন। প্রতি বিঘা জমি থেকে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রয় করা যায়।
শেরকোল ইউনিয়নের গুলবার জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করায় আবাদ করতে তেমন কোন অসুবিধা হয়নি। তাদের পরামর্শে গত বছরের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বছর এই মৌসুমে উপজেলার ডাহিয়া বাজারে ভুট্টার আড়ত বসে। ডাহিয়া, ইটালি সহ বিভিন্ন গ্রামের ভ্ট্টুা চাষিরা এখানে ভুট্টা বেচাকেনা করেন। আড়তদার আসাদ বলেন, এখানে ভুট্টার জমজমাট হাট বসে। প্রতিদিন এলাকার ভুট্টা চাষিরা ভুট্টা বিক্রয় করতে এই বাজারে আসে। স্থানীয় ভাবে ন্যায্য দাম দেয়া হয়। বর্তমানে কাঁচাভেজা ভুট্টা ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ টাকা ও শুকনো ভুট্টা ৬শ থেকে ৭শ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। এসব ভুট্টা দেশের রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা আড়তে এসে কিনে নিয়ে যায়।
সিংড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন জানান, উপজেলা কৃষি অফিস, সার্বক্ষনিক সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য এ অঞ্চলের কৃষকদের পাশে আছে। কৃষকরা যাতে সব ধরনের ফসল ফলাতে আগ্রহী হয়ে উঠে। এবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ভুট্টার ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ মণ থেকে ৪০ মণ। বিগত বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে ভুট্টার ফলন ও দাম ভালো। আগামীতে কৃষকরা ভুট্টার আবাদে আরও উৎসাহী হবে। এ বছর আগাম বন্যার কারনে কিছু সংখ্যক কৃষক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত সম্মূখীন হয়েছে। তবে ভালো ফলন ও দামের কারনে কৃষকদের সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
স/এষ।

