ঢাকামঙ্গলবার , ১০ জানুয়ারি ২০২৩
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

টঙ্গীতে আগামী শুক্রবার থেকে বিশ্ব ইজতেমা ১ম পর্ব শুরু

admin
জানুয়ারি ১০, ২০২৩ ৫:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

টঙ্গীতে আগামী শুক্রবার থেকে বিশ্ব ইজতেমা ১ম পর্ব শুরু

শাহজাহান শোভন, টঙ্গী থেকে: করোনা মহামারির কারণে দুই বছর পর গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৩ জানুয়ারি রোজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা ১ম পর্ব।

প্রথম পর্বে ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেবেন মাওলানা জোবায়েরপন্থি মসুল্লিরা। ৪দিন বিরতি দিয়ে ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ পন্থিরা অংশ নেবেন। প্রথম পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লীরা আসতে শুরু করেছেন।

মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় ধর্মীয় সমাবেশ তাবলিগ জামাতের বিশ^ ইজতেমা উপলক্ষে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানের বেশীর ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শীতের ঠান্ডা বাতাস উপেক্ষা করে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মুসল্লিরা।

এ ব্যাপারে ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বি ডা. কাজী শাহাবুদ্দিন বলেন, ইজতেমার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ময়দানের প্রায় ৯৮ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা মাঠে প্রবেশ করে খিত্তাওয়ারী অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ময়দানের পশ্চিম পাশে তুরাগ নদের পূর্বপাড়ে নামাজের মিম্বর ও উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি মেহমানদের জন্য নির্ধারিত কামরার পাশে বয়ান মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও তাশকিল কামরা, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, বধিরদের বয়ান শোনার জন্য পৃথক কামরা তৈরি করা হয়েছে।

আয়োজক কমিটির মুরব্বীরা বিশ^ ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের ময়দানে প্রথম পর্বে খিত্তাভিত্তিক অবস্থান করার অনুরোধ করেছেন। গাজীপুর (খিত্তা-১), টঙ্গী (খিত্তা-২, ৩ ও ৪), ঢাকা (খিত্তা-৫ থেকে ১৮ ও ২১, ২২, ২৫, ২৭, ২৮, ৩০), রাজশাহী (খিত্তা-১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জ (খিত্তা-২০), নাটোর (খিত্তা-২৩), নওগাঁ (খিত্তা-২৪), নড়াইল (খিত্তা-২৬), সিরাজগঞ্জ (খিত্তা-২৯), টাঙ্গাইল (খিত্তা-৩১), রংপুর (খিত্তা-৩২), গাইবান্ধা (খিত্তা-৩৩), লালমনিরহাট (খিত্তা-৩৪), মুন্সীগঞ্জ (খিত্তা-৩৫), যশোর (খিত্তা-৩৬), নীলফামারী (খিত্তা-৩৭), বগুড়া (খিত্তা-৩৮), জয়পুরহাট (খিত্তা-৩৯), নারায়ণগঞ্জ (খিত্তা-৪০), ফরিদপুর (খিত্তা-৪১), ভোলা (খিত্তা-৪২), নরসিংদী (খিত্তা-৪৩), সাতক্ষীরা (খিত্তা-৪৪), বাগেরহাট (খিত্তা-৪৫), কুষ্টিয়া (খিত্তা-৪৬), মেহেরপুর (খিত্তা-৪৭), চুয়াডাঙ্গা (খিত্তা-৪৮), ময়মনসিংহ (খিত্তা-৪৯, ৫১), শেরপুর (খিত্তা-৫০), জামালপুর (খিত্তা-৫২), গোপালগঞ্জ (খিত্তা-৫৩), কিশোরগঞ্জ (খিত্তা-৫৪), নেত্রকোনা (খিত্তা-৫৫), ঝালকাঠি (খিত্তা-৫৬), বান্দরবান (খিত্তা-৫৭), বরিশাল (খিত্তা-৫৮), পিরোজপুর (খিত্তা-৫৯), হবিগঞ্জ (খিত্তা-৬০), কক্সবাজার (খিত্তা-৬১), সিলেট (খিত্তা-৬২), সুনামগঞ্জ (খিত্তা-৬৩), ফেনী (খিত্তা-৬৪), নোয়াখালী (খিত্তা-৬৫), লক্ষ্মীপুর (খিত্তা-৬৬), চাঁদপুর (খিত্তা-৬৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (খিত্তা-৬৮), খুলনা (খিত্তা-৬৯), পটুয়াখালী (খিত্তা-৭০), বরগুনা (খিত্তা-৭১), চট্টগ্রাম (খিত্তা-৭৪), কুমিল্লা (খিত্তা-৭৫), তুরাগ নদের পশ্চিমপাড় কাঁচাবাজারে মৌলভীবাজার (খিত্তা-৭৬), রাজবাড়ী (খিত্তা-৭৭), মাদারীপুর (খিত্তা-৭৮), শরীয়তপুর (খিত্তা-৭৯), মানিকগঞ্জ (খিত্তা-৮০, সাফা টাওয়ার), রাঙ্গামাটি (খিত্তা-৮১), খাগড়াছড়ি (খিত্তা-৮২), দিনাজপুর (খিত্তা-৮৩), পাবনা (খিত্তা-৮৪), ঠাকুরগাঁও (খিত্তা-৮৫), ঝিনাইদহ (খিত্তা-৮৭, যমুনা প্লট), মাগুরা (খিত্তা-৮৮, যমুনা প্লট), কুড়িগ্রাম (খিত্তা-৮৯, কামারপাড়া বেড়িবাঁধ বঙ্গবন্ধু মাঠ), পঞ্চগড়ের (খিত্তা-৯০) কামারপাড়া হাইস্কুল মাঠ-বধির স্কুল ভবন) জন্য নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিয়ে ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এছাড়াও ময়দানের চারপাশে ১১ ও ১২নং খিত্তার কিয়দংশ, ৩২ ও ৩৭নং খিত্তার মাঝামাঝি ১২নং, ৭২, ৭৩, ৮৬ ও ৯১নং খিত্তাগুলো সংরক্ষিত হিসেবে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি ডা. খান মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।

জিএমপি কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে ৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও রুফটপ থেকে পুরো ইজতেমা ময়দানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্পেশালাইজড টিমসহ প্রতিটি খিত্তায় সাদা পোশাকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

ইজতেমা ময়দানে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুরো ময়দানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রায় তিন শতাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে পুরো ময়দানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

চিকিৎসাসেবা: ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রায় ৩০টি সংগঠন তাদের অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করছে বলে জানা গেছে। এগুলোর মধ্যে হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি অন্যতম।

এছাড়া মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঢাকা থেকে আগত ১৩টি বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করবে। মুমূর্ষু রোগী পরিবহনের জন্য ১৪টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

তুরাগ নদে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তৈরি করছেন ৫টি প্লটুন, যা দিয়ে সাময়িকভাবে মুসল্লিরা এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশাল ময়দানে খিত্তাভিত্তিক চলছে মাইক বাঁধা এবং বৈদ্যুতিক তার ও বাতি টানানোর কাজ। এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১২টি নলকূপে ১২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে ১৫ জানুয়ারি রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম পর্বের (জুবায়েরপন্থি) বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের অনুসারী (মাওলানা সাদপন্থি) মুসল্লিরা বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবেন।

স/অ