সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে যেন থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। উত্তরাঞ্চলের সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নাটোর-বগুড়া মহাসড়ক। প্রতিদিন এই মহাসড়কে চলাচল করে ট্রাক, বাসসহ ছোট বড় হাজারো যানবাহন। কিন্তু প্রশস্থ না হওয়ায় এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। ইতিমধ্যে এই সড়কে ছোট বড় দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। চলতি বছরেই দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ১১জন। দ্রুত সড়কটি প্রশস্থ করার দাবী এই পথে চলাচলকারীদের।
জানা যায়, নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৩২ কিলোমিটার নাটোর এবং ২৮ কিলোমিটার বগুড়ার অংশ। উত্তরাঞ্চলের সাথে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই মহাসড়কটি। প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করে যাত্রীবাহি বাস, পাথর বোঝাই ট্রাকসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ভারী যানবাহন। এই সড়কটি দিয়েই চলনবিল এলাকার উৎপাদিত কৃষিজাত পণ্য, মৎস্য সম্পদ নাটোর ও বগুড়া হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটসহ নানাকারণে সড়কটির গুরুত্ব¡ অপরিসীম। এতোকিছুর পরও গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি এখন আতংকের নাম। সড়কের প্রশস্থতা কম থাকায় ওভারটেকিংয়ে করতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। সড়কটির পাশে নেই মানুষজন চলাচলের রাস্তা। তাছাড়া বৈধ-অবৈধ যানচলাচলে অত্যাধিক কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। অকালেই ঝড়ে যাচ্ছে অনেক প্রাণ। দূর্ঘটনা রোধে দ্রুত সড়কটি প্রশস্থ করার দাবি জানিয়েছেন এই পথে চলাচলাকারীরা।
সম্প্রতি ঝলমলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির আয়োজনে শহরের কানাইখালি এলাকায় স্থানীয় একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন এর পুলিশ সুপার ইসমাইল হাওলাদার,হাইওয়ে বগুড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, ঝলমলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম সহ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি,জেলা ট্রাক, ট্রাংকলরী ও কাভার্ডভ্যান পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের নিয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উত্তরবঙ্গের যোগাযোগের প্রধান এই সড়কটির প্রশস্ততা বাড়ানো দাবি জানানো হয়। সেই সাথে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিককার বিষয়ে ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, নাটোর-বগুড়া মহাসড়কটি সরু হওয়ায় গত বছরে ছোট বড় দূর্ঘটনায় এই মহাসড়কে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫জন। যা স্থানীয়দের মতে এই সংখ্যা দ্বিগুণ।
সিংড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এমরান আলী রানা বলেন, এই মহাসড়কটি চারলেনে উন্নতি করা এখন সময়ের দাবী। প্রতিনিয়িত এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াতের সময় দূরদুরান্ত সহ স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। কেউ কেউ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে সারাজীবনের মত। দ্রুত এই মহাসড়কটি প্রশস্ত করা না হলে একের পর এক প্রাণ ঝরতেই থাকবে। তাছাড়া এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভাটা পড়বে।
ট্রাক ড্রাইভার আলী আক্কাস জানান, এই মহাসড়কটি দিয়ে পঞ্চগড়ের পাথর বোঝাই ট্রাকসহ রংপুর দিনাজপুর গামী যাত্রীবাহি ও পণ্যবাহি যানবহন চলাচল করে। সে দিক থেকে এই সড়কটির গুরুত্ব অনেক। দ্রুত এটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
নাটোর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, মহাসড়কের শ্রেণী অনুযায়ী সড়কের প্রশস্থতা সর্বনিম্ন ২৪ ফুট হওয়ার নিয়ম থাকলেও নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্থতা মাত্র ১৮ফুট। এই মহাসড়কটি ৩০ ফিট প্রশস্থ করতে ২৩০ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয় উল্লেখ করে যথাযথ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। নাটোর-বগুড়া মহাসড়কটি প্রশস্থ করে এই সড়কে মৃত্যুঝুঁকি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এমন প্রত্যাশা তার।
অপরদিকে, নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, নাটোর বগুড়া মহাসড়কে দূর্ঘটনা এড়াতে সড়কটি প্রশস্থ করণে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অচিরেই মহাসড়কটি প্রশস্থকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। (ফাইল ছবি সংযুক্ত)
স/শা

