খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন ও তার আলোচিত রেইনট্রি হোটেলের ছাত্রী ধর্ষন এবং মদ জব্দ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ব্যপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে এমপি হারুনের নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠি-১ আসনের রাজপুর ও কাঁঠালিয়ায় এখন সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তা ভাইরাল।
হোটেল রেইট্রিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ এবং মদ জব্দ হওয়া নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এমপি হারুণকে নিয়ে নিজ দলের মধ্যে সমালোচনার সংবাদ প্রকাশিত হয়। আর তা মূহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পুরো জেলায়। আর এমন একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার হলে তাতে লাইক দেয়ার অপরাধে জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার এক সাংবাদিককে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে আহত করেছেন কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কিবরিয়া সিকদার ও তার লোকজন।
আহত সাংবাদিক এইচএম বাদল বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কাঁঠালিয়া কমিটির আহ্বায়ক এবং আঞ্চলিক দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের স্থানীয় প্রতিতিনিধি। তিনি বর্তমানে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কাঁঠালিয়া উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের পিছনে ধরে নিয়ে গিয়ে এ হামলা চালানো হয়। লোহার রড় দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে আহত করা হয় তাকে। খবর পেয়ে আত্মীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন, জানান আহত সাংবাদিক এইচএম বাদল।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিব রহমান বলেন, বাদলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার পা ও কোমরেও গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে, বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
আহত সাংবাদিক বাদল আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কাঁঠালিয়া বাজার থেকে আমাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদারের সহযোগীরা। পরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের পিছনে নিয়ে চেয়ারম্যান নিজে এবং তার ২০-২৫ সহযোগী মিলে আমাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পেটায়।
সাংসদ বিএইচ হারুনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ফেইসবুকে লাইক দেয়ার অভিযোগ তুলে আমার ওপর হামালা চালায় তারা।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ঝালকাঠি জেলা শাখার আয়োজনে সাংবাদিকরা বুধবার দুপুরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
জেলা কমিটির সভাপতি আজমীর হোসেন তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম কেন্দ্রিয় কমিটির সাংধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর, ঝালকাঠি সময় সম্পাদক পলাশ রায়, এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি অলোক সাহা, মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক বাবুল মিনা, বশির গাজী, মো. ইব্রাহিম খান শাকিল বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সভা থেকে সাংবাদিক বাদলের ওপর হামলাকারী উপজেলা চেয়ারম্যান ও তার দলবলের বিচার দাবীতে কাল বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সবাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে।
একই দাবীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে তথ্যমন্ত্রীর বরাবরে স্বারকলিপি দেয়ারও সীদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানীর রেইনট্রি হোটেলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম মন্ত্রণলয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হরুনকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া সিকদার।
বক্তব্যে বলা হয়, রেইনট্রি হোটেলে এমপি বিইচ হারুনের কোন মালিকানা নেই। তিনি একজন সৎ, মেধাবী ও আদর্শবান রাজনীতিবিদ। তার নেতৃত্বেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ সুসংগঠিত। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ইর্ষান্বিত হয়ে কতিপয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের এমপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচাপর চালাচ্ছে।
অপরদিকে সাংবাদিক বাদলের ওপর হামলার ব্যপারে জানাতে চাইলে কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া সিকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি বাদলকে মারধর করিনি। এমপির বিরুদ্ধে লেখায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছেলেরা হয়তো মারতে পারে। এমপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোসহ সাংবাদিক বাদলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, বলেন উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার।
স/এষ্

