শাহ আলম, গোয়াইনঘাট থেকেঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়ের জামাই বাড়ির লোকজনের মারপিটে আহত হয়ে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে শ্বশুরের। নিহত ব্যক্তি উপজেলার ডৌবাড়ি ইউনিয়নের চারিগ্রাম হাওরের মৃত আব্দুল জব্বারের পুত্র আতাউর রহমান আতাই (৫৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় আতাউর রহমানের জামাতা মোখলেছুর রহমান স্ত্রীসহ প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস ধরে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। গত ১৪ মে বিকেলে মোখলেছুর রহমানের স্বজনেরা তাকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে আসলে সে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে তার স্বজনেরা তাকে জোরপুর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তার শ্বশুর আতাউর রহমান ও তার মেয়ে ফাহিমার সাথে মোখলেছুর রহমানের স্বজনদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় মোখলেছুররের বাড়ির স্বজনেরা তার শ্বশুর আতাউর রহমানকে মারপটি করে। মারপিটে গুরুতর আহত হওয়ায় আতাউরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় গতকাল বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে ফাহিমা বাদী হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে গোয়াইনঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার নামীয় চারিগ্রাম হাওরের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন, তাজ উদ্দিন ও কাঠাল কুড়ি কান্দি গ্রামের আব্দুল কায়ুম এবং দেলোয়ার হোসেনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মতিউর রহমান জানান চিকিৎসাধীণ আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি তার জন্য জরুরী রক্তের প্রয়োজন। আমার নিজের শরীরে রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় নিজের রক্ত দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারলাম না। আজ (বুধবার) সকালেই সে মারা যান।
থানার ওসি (তদন্ত) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন মামলার এজাহার নামীয় ৪ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। অপর আরেক জনকে আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ছবি ক্যাপশনঃ
১। সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়ের জামাইর বাড়ির লোকজনের মারপিটে নিহত আতাউর রহমান।
২। সিলেটের গোয়াইনঘাটে মেয়ের জামাইর বাড়ির লোকজনের মারপিটে গুরুতর আহত চিকিৎসাধীণ আতাউর রহমানকে রক্ত দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এস আই মতিউর রহমান।
স/এষ্

