সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ছিলেন আওয়ামী লীগের উজ্জ্বল নক্ষত্র
আবু নাসের হুসাইন, সালথা: আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ব্যক্তি নন, দলীয় নেতাকর্মী থেকে সুশীল সমাজ তাঁকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখতেন। তিঁনি ছিলেন আওয়ামী লীগের উজ্জল নক্ষত্র। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগি এবং একজন ভাষাসৈনিক ছিলেন তিনি। সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুর-২, আসনের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোক নেমে এসেছে।
১৯৯১ এর নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি বন ও পরিবেশমন্ত্রী ছিলেন। পরে ২০০৮ সালে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসন থেকে নির্বাচিত হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। এর মধ্যে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতা হন। ইন্তেকালের আগের দিন পর্যন্ত একই পদে বহাল ছিলেন তিনি।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মাতা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিঁনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামে। সাজেদা চৌধুরীর তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তাঁর স্বামী ভাষা সৈনিক, রাজনীতিবিদ এবং সমাজকর্মী গোলাম আকবর চৌধুরী ২০১৫ সালের ২৩ নভেম্বর মারা যান।
রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২ টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিঁনি। সোমবার সকাল সোয়া ১১ টায় ফরিদপুরের নগরকান্দা মহেন্দ্র নারায়ন একাডেমী মাঠে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকমীসহ সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ জানাজায় নেয়। পরে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বাদ আছর বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালক, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সময়কালে বাংলাদেশ গার্ল গাইডের ন্যাশনাল কমিশনার এবং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯২ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বও পালন করছেন এই প্রবীন রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপ পান। একই সময়ে তিনি বাংলাদেশ গার্ল-গাইড এসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক সনদ সিলভার এলিফ্যান্ট পদক লাভ করেন। তিনি ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক ওমেন অব দি ইয়ার নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।
স/এষ্

