টাওয়ারে ওঠে আটকে পড়া কিশোর ৪ ঘন্টা পর উদ্ধার
পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ বুধবার সকাল ৮ টার দিকে নেত্রকোনা পৌর শহরের বড় রেলস্টেশন এলাকায় এক কিশোর টাওয়ারে ওঠে আটকা পড়ে। টাওয়ারের ওপরে থাকা ওই কিশোরটি পথচারী লোকজনের চোখে পড়লে মূহুর্তের মধ্যে এ ঘটনা আশ-পাশে ছড়িয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতা ভীড় জমাতে থাকে। একপর্যায়ে ওই কিশোরের মা’সহ তার পরিবারের লোকজন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এবং সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাও ঘটনাস্থলে আসেন।
উৎসুক জনতার অনেকেই তাকে নিচে নেমে আসতে বললেও সে নিচে নামেনি। পরে কিশোরের মা টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে মাইকের মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আটকে পড়া কিশোরকে মোহাম্মদ, মোহাম্মদ, আমি তোমার মা। তুমি নিচে নেমে আস বাবা। তিঁনি অনেক আকুতি-মিনতি করে অনুরোধ করলেও সে নিচে নামেনি।

দুপুর ১২ টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রঁশি নিয়ে টাওয়ারের ওপরে ওঠে এবং রঁশি দিয়ে তাকে বেঁধে নিচে নামাতে সক্ষম হয়। মাদ্রাসা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরের নাম মোহাম্মদ বিশ্বাস। বয়স অনুমান-(১৩) বছর। সে বড় রেলস্টেশন এলাকার মাদ্রাসাতুল আরকান হাফেজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। জেলার কলমাকান্দা উপজেলার মনতলা গ্রামের বাবুল বিশ্বাসের ছেলে কিশোর মোহাম্মদ বিশ্বাস।
মঙ্গলবার পাঠদান শেষে মাদ্রাসা ছুটি (বন্ধ) দিলে সবাই বাড়িতে চলে গেলেও সে মাদ্রাসায় থেকে যায়। কোন অজ্ঞাত কারণে বাবার ভয়ে সে বাড়িতে যায়নি। বুধবার সকাল ৮ টার দিকে সকলের অগোচরে মাদ্রাসা ও বড় রেলস্টেশনের পার্শ্বে থাকা গ্রামীণ ফোন অপারেটরের টাওয়ারে ওঠে বসে অবুঝ কিশোর।
নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা-মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা আমাদের ইউনিটের সকলের সমন্বয়ে টাওয়ারে আটকে পড়া কিশোরকে নিচে নামিয়েছি। তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি শাকের আহমেদ জানান, খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান এবং তিঁনি নিজেও যান। দীর্ঘ ৩-৪ ঘন্টা সকলের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা টাওয়ারে আটকে পড়া মোহাম্মদকে নিচে নামাতে সক্ষম হয়। পরে তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, আমি কিশোর মোহাম্মদ, তার পরিবার, মাদ্রাসা ও স্থানীয় লোকজন এবং ওসি (নেত্রকোনা মডেল থানা) সাহেবের সাথে কথা বলেছি। সার্বিক খোঁজ খবর নিয়েছি। চিকিৎসা শেষে তাকে পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

