শুক্রবার বিকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় জাফর মোল্যা গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আবু জাফর মোল্যা।
সন্ধ্যায় এই হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে গেলে মুহুর্তের মধ্যে উভয় গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, শরকি, টেটা ও ইটের টুকরো নিয়ে দিয়াপাড়া ও জয়ঝাপ গ্রামে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এতে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। এই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১২জন অাহত হয়েছে বলে জানা যায়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গ্রামবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গ্রাম্য দলাদলি ও আধিপত্য নিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফর মোল্লা ও তার প্রতিপক্ষ সায়েম মিয়া ওরফে টিটন মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে শুক্রবার বিকালে জয়ঝাপ বাজার থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে ফেরার সময় জয়ঝাপ বাজারের পাকা রাস্তায় অাসলে ওৎ পেতে থাকা ছায়েম মিয়া ওরফে টিটন মিয়ার সমর্থক শামিম মৃধা, সেলিম মৃধা, শহিদ কাজী, রইচ কাজী, এস্কেন্দার মৃধা, ওয়াহিদ কাজী, সাইম কাজীসহ ৮/১০ জন তার উপর হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা লোহার রড, ধারালো ছ্যানদা, রামদা, হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই হামলার খবর এলাকায় মুহুর্তের ছড়িয়ে গেলে সন্ধ্যায় উভয় গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, শরকি, টেটা ও ইটের টুকরো নিয়ে দিয়াপাড়া ও জয়ঝাপ গ্রামে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় ১টি বসতঘর ও ৪টি দোকানঘর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে উত্তেজিত সংঘর্ষকারীরা। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।
জাফর মোল্যার উপর হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে ছায়েম মিয়া ওরফে টিটন মিয়া বলেন, আজ আমার আপন বোন মারা গিয়েছে, আমি আমার বোনের বাড়িতে এসেছি। আমি জাফর মোল্যার উপরে কোন হামলা করি নাই। তবে আমি শুনেছি আমার দলের ছেলেরা জাফর মোল্যার উপরে হামলা করেছে।
গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: দেলোয়ার হোসেন প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, যারা জাফর মোল্যার উপর হামলা চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
সালথা থানার এস আই আওলাদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ২ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে উভয় গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকা এখন শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
সালথা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শেখ সাদীক বলেন, হামলার ঘটনা শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।