ফরিদপুরের নগরকান্দায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুর ব্যুরো: ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন বরাবর করা অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঐ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস এম ইফতেখার আজাদ। শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এসময় ইফতেখার আজাদ তার অধিনস্ত একাধিক স্বাস্থ্য সহকারী কর্তৃক সিভিল সার্জন বরাবর করা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে একেকটি অভিযোগের কতটুকু সত্যতা আছে তার প্রমাণসহ তুলে ধরে ডাঃ এসএম ইফতেখার আজাদ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি যখন নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ RMO ছিলাম তখন অনেক ইচ্ছা থাকা সত্বেও নগরকান্দা হাসপাতালের জন্য কোন কাজ করতে পারিনি। আমি UHFPO হয়ে নগরকান্দা থেকে সালথায় যোগদান করি।পরবর্তীতে নগরকান্দায় UHFPO না থাকায় আমাকে অতিরিক্ত দায়িত্বভার প্রদান করেন।
আমি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে নগরকান্দায় যোগদান করার পর থেকে দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করি। প্রথমে ডাক্তার, নার্স সহ সকল স্টাফদের নিজনিজ দায়িত্ব বণ্টন করে দেই। এতে করে কারও কোন সমস্যা না হলেও সিনিয়র কয়েকজন নার্স, স্বাস্থ্য সহকারী ও ড্রাইভার আমার বিরুদ্ধাচার করেন। আমি খোজ নিয়ে জানতে পারি বিগত দিনে এরা নিজেরা কোন কাজ না করে কাজ করাতেন বহিরাগত আয়াদের দিয়ে। আমি নার্সদের অবস্থানের জন্য একটি স্টেশনের জায়গায় দুটো স্টেশন করে দেই। একটিতে পুরুষ অন্যটিতে মহিলা। এমনি করে জরুরী বিভাগে ও একজন করে নার্সদের দায়িত্ব বণ্টন করি। জরুরি বিভাগে অনেক সময় মহিলারা মারামারি করে আসেন, তাদের দেখার জন্য এমনকি মহিলাদের ইসিজি করার জন্য একজন নার্সকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অলসতা ধরে রাখতে না পেরেই তারা আমার বিরুদ্ধাচরণ করেন। এম্বুলেন্স এর ভাড়া নগরকান্দা থেকে ফরিদপুর যেতে ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬০০ টাকা করে দেই। ইচ্ছেমত চলতে না পেরে ড্রাইভারও আমার বিরুদ্ধে যান। যে অর্থ তছরুপের ব্যাপারে আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তা যে তারাই নিয়ে সই করেছেন তা সাংবাদিকদের দেখান।
এসময় তিনি বলেন, আমি এখানে যোগদান করার পর হাসপাতালের নার্স ও স্টাফদের অনেক অনিয়ম চোখে পড়ে। সেই অনিয়ম সংশোধন করতে গিয়ে কিছু কর্মচারী ও নার্সরা আমার বিরুদ্ধ হয়েছে। যেমন নার্সরা আয়া দিয়ে রোগীদের স্যালাইন পুশ করায়, ইনজেকশন পুশ করানো, ড্রেসিং করানো ইত্যাদী কাজ করাচ্ছে। আমি এসে এই সব বন্ধ করে নার্সদের নির্দেশ দিয়ে এ গুলো নার্সদের কাজ নার্সরাই করবে। তাছাড়া কার্মচারীরা ভূয়া বিল ভাউচার করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে। এই সব কাজে বাধা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে। তিনি আরো বলেন, নগরকান্দার বাসির সেবা দিতে আমি স্বাস্থ্য সেবাকে জনগনের দরজায় পৌছানোর জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এছাড়া আমার আসার আগে এখানে আবাসিক ভবনে স্টাফরা থাকলেও কেউ বাড়ী ভাড়া দিতেন না। চুক্তি ভিত্তিক ভাড়া দিয়ে বসবাস করতেন। চুক্তির টাকাটা রাজস্ব খাতে জমা হতো না। আমি যোগদান করার পর থেকে সবাইকে নোটিশ দিয়ে বিধিমতো বাড়ী ভাড়া আদায় করছি যা রাজস্ব খাতে জমা হচ্ছে। অর্থ লুটপাটের বিষয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থ সমান ভাবে সবার স্বাক্ষর নিয়ে টাকাটা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একটি চক্র আমাকে এখান থেকে সরাতেই এসকল নাটক সাজিয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। হাসপাতালের কিছু নার্সরা তাদের দ্বায়িত্বে অবহেলা, এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের অনিয়মে বাধা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি চক্র। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করেছে তাতে জোর করে কিছু নার্সের সাক্ষর নিয়ে ছিলো। পরে সেসকল নার্সরা পুনঃরায় সে সাক্ষর প্রত্যাহারের জন্য কতৃপক্ষের কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের পুরোনো যে এ্যাম্বুলেন্সটি কয়েক বছর অকেজো হয়ে গ্যারেজে পরে আছে। একটুও চলেনি সেই এ্যাম্বুলেন্সের নামে মেরামতে মিথ্যা ভাউচার করেছে যার মধ্যে যথাক্রমে ৪৪ হাজার, ৪২ হাজার, ৯৯ হাজার, ৫৫ হাজারসহ একাধিকবার মিথ্যা বিল উত্তোলন করার বিরুদ্ধে যাওয়ায় আমার বিপক্ষে অভিযোগ করে। নার্সদের কাজ নার্সরা নিজেরা না করে আয়াদের দিয়ে করানো হয় বলে একাধিক আয়ারাও অভিযোগ করে নার্সদের বিপক্ষে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাঃ এস এম ইফতেখার আজাদ আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গুলো আনা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। যথাযথ প্রমান না দিতে পারলে আমি অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জোর্তিময় চৌধুরী, ডাক্তার মাজহারুল ইসলাম, ডাক্তার আনন্দ সাহা ও স্থানীয় গনমাধ্যমের কর্মীরা।
উল্লেখ্য, নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আওতাধীন স্বাস্থ্য সহকারীদের জন্য বরাদ্দকৃত বিভিন্ন খাতের অর্থ লুটপাট, স্টাফদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুত করার হুমকি প্রদানসহ নানা অভিযোগ এনে গত ২৩ জুন জেলা সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করে স্বাস্থ্য সহকারীরা।

