নেত্রকোনায় বন্যার অবস্থা ভয়াবহ
পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা জেলার বেশ কয়েকটা উপজেলায় বন্যা ভয়াবহ অবস্থা রুপ নিয়েছে। নিন্মঞ্চলে বন্যার পানিতে আটকে পড়া প্রায় ১৬১৮০ জন মানুষকে আশ্রয়ন কেন্দ্রে আনা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় দেয়া হচ্ছে খাবার, শুকনা খাবার আর খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রোম প্রশাসনের চলছে নজরদারি।
সরেজমিন ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর, কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি, বারহাট্টা ও মদন উপজেলায় ৩৯ টি ইউনিয়ন পাহাড়িঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা কবলিত হয়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ৩৬ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কংশ নদের বাঁধের একটি অংশে ফাঁটল দেখা দেয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হচ্ছে। প্রায় ৪৭৩ হেক্টর জমির আউশ ধান ও সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি অফিস, গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, বাড়িঘর তলিয়ে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন তরফ থেকে এপর্যন্ত বন্যাদূর্গত মানুষদের জন্য ১৮৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাতে প্রায় ১৬১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরবর্তীতে রান্না করা খাবার পরিবেশন করা হবে। এছাড়াও বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ৬৮ মেঃ টন চাল, ২,৫০,০০০ টাকা ও ২,০০০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপ-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্হিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃক সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
বন্যা কবলিত এলাকার প্রবীণ মানুষদের ভাষ্য ১৯৮৮ সালের পরে এতো বড় ভয়াবহ বন্যা নেত্রকোনায় আর হয় নাই। বন্যা কবলিত এলাকার লাখ লাখ মানুষ অতি মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।
স/বি

