ময়মনসিংহে বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক
সেন্টারে অভিযানকে ভিন্ন খাতে নেয়ার পায়তারা
ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা-
ময়মনসিংহে অনিবন্ধিত বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টারে অভিযানকে ভিন্ন খাতে নেয়ার পায়তারা পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।সারা দেশের ন্যায় ময়মনসিংহ জেলা ও উপজেলা শহরে অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন অফিস ও জেলা প্রশাসন।
অনিবন্ধিত ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করায় কিছু অসাধু মালিকগণ বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য উঠে পরে লেগেছে।
তবে ময়মনসিংহবাসী স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে আরো আগে থেকেই পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার ছিল। মানুষের স্বাস্থ্য সেবার নামে যা চলছে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কোন জায়গাই অনিবিন্ধত ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এবং প্রাইভেট হাসপাতাল খুলে সেবার নামে করছে প্রতারনা। কয়েক দিন পর পর রোগীদের সাথে করছে ঝামেলা আর হৈচৈ। একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সঠিকভাবে চিকিৎসা করার জন্য এদের নজরদারীতে না দরকার বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী আরো জানান,বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে দেশের পুরনো ও ঐতিহ্যময় একটি শহর ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহ বিভাগের চাটি জেলা জামালপুর,শেরপুর,নেত্রকোনা,ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজিপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার, হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ নানা কারণে ময়মনসিংহ জনবহুল শহর। দিন দিনই এ শহরের বিস্তৃতি বেড়েই চলেছে। তবে চিকিৎসার জন্যই এ শহরে সবচেয়ে বেশি মানুষ আসে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একমাত্র সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। আর এ হাসপাতালকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে শত শত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। যার বেশিরভাগই অবৈধ। তবে তা দেখার কেউ নেই। আর এ সুযোগেই ময়মনসিংহ শহরে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণার মহাৎসব। প্রতিটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের রয়েছে আলাদা আলাদা দালালচক্র। এরা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিয়োজিত।
এছাড়া দালালচক্রের সদস্যরা গ্রাম থেকে নিরহ রোগীদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এসব ক্লিনিকে নিয়ে সর্বস্ব কেড়ে নেয় চিকিৎসার আগেই। কখনও আবার ভুল চিকিৎসায় লাশ হয়ে ফিরতে হয় রোগীদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে গজিয়ে উঠা এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ও সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। প্রতিনিয়তই চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
ময়মনসিংহ জেলা শাখার বিএমএ ও বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ গোলন্দাজ তারা জানান অবশ্যই দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার এর দায়িত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে । দেরীতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত কাগজপত্র নেই এবং সেবার মান ভাল না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার । কিন্তু অভিযানের বিষয়ে যেন কাউকে অযথা হয়রানি না করা হয়। সেই বিষয় খেয়াল রেখে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা বলবো। উদ্যোগটি অবশ্যই সময়উপযোগী।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ হরিশংকর দাস জানান যাদের প্রতিষ্ঠান মানসম্মত নয় এবং যাদের লাইসেন্স নেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের দাবী ছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সঠিক সময়ে সঠিক কাজটিই করেছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ অভিযান বানচাল করার জন্য কথিপয় লোক উঠে পরে লেগেছে। সিভিল সার্জন এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করছে। ময়মনসিংহ জেলায় মোট পাঁচশত ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে। তাদের মধ্যে নিবন্ধকৃত আছে চারশতাধিক। পরিদর্শন হয়েছে একশত তিনটি,তার মধ্যে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করেছে প্রশাসন। ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স/বি

