ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ মে ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

নেত্রকোনায় বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের ফলে বাচ্চা প্রসব; আসামী, ভিকটিম ও শিশুর DNA পরীক্ষা

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
মে ২৬, ২০২২ ২:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নেত্রকোনায় বাকপ্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের ফলে বাচ্চা প্রসব; আসামী, ভিকটিম ও শিশুর DNA পরীক্ষা

পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ ঘটনা নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের।ভিকটিমের পরিবার, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের মোতালিব মিয়া ও বকুলা আক্তার দম্পতির ৪র্থ সন্তান ৩০ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে মিলু (ছদ্মনাম)। গেল কোরবানি ঈদের ২/৩ দিন পর গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা ৬ টার দিকে প্রতিবেশী কদ্দুসের বাড়িতে সেলাই করা নতুন কাপড় আনতে যায় মিলু। কিছুক্ষণ পর কাপড় নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে বাপ্পির বাড়ির সামনে পৌঁছে মিলু। একা পেয়ে ভয় দেখিয়ে টানা-হেঁচড়া করে তাদের বৈঠক (আলাদা) ঘরে নিয়ে বাপ্পি জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বাকপ্রতিবন্ধী মিলুকে।

পরে তার বাড়িতে যায় ভিকটিম মিলু। মিলুর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তার মা-বাবা ওইদিন ঘটনার বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারে নাই। গত নভেম্বর মাসের শেষের দিকে মিলু হঠাৎ ঘন ঘন (বেশি বেশি) বমি করে। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায় ভিকটিম মিলুকে। ওই ডাক্তার জানায়, ভিকটিম মিলু অন্তঃসত্ত্বা।

মা বকুলা আক্তার ঘটনার বিষয়ে ইশারা ঈঙ্গিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে মিলুকে। একটা ছেলে তার (ভিকটিম) সাথে খারাপ কাজ করেছে ইশারা ঈঙ্গিতে প্রকাশ করে মিলু। বাকপ্রতিবন্ধী মিলু কাগজে লেখে ছেলেটার নাম সারোয়ার। মা বকুলা আক্তারকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল (সারোয়ার এর বৈঠক ঘর) শনাক্ত করে ভিকটিম মিলু। একপর্যায়ে বকুলা আক্তার ও তার স্বামী মোতালিব মিয়া কতিপয় প্রতিবেশী কয়েকজনকে বাপ্পিদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাপ্পিরা ৪ ভাই। বাপ্পিদের সকল ভাইদের ছবি দেখালে ইশারা ঈঙ্গিতে বাপ্পিকে শনাক্ত করে ভিকটিম মিলু। বাপ্পি তার (ভিকটিম) সাথে খারাপ কাজ করেছে, পেটে থাকা বাচ্চা বাপ্পির বাচ্চা ইশারা ঈঙ্গিতে বারবার বুঝানোর চেষ্টা করে বাকপ্রতিবন্ধী মিলু।

অপরাধীর সঠিক নাম সারোয়ার আলম ওরফে বাপ্পি (২০)। সে একই গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছোট ছেলে। বাপ্পি গত বছর নেত্রকোনার আবু আব্বাছ ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলো।

এবিষয়ে ভিকটিমের পরিবার স্থানীয় কোন বিচার পায়নি। পরে মা বকুলা আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় সারোয়ার আলম ওরফে বাপ্পির নামে এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের প্রেক্ষিতে নেত্রকোনা মডেল থানায় গত ২২ অক্টোবর ধর্ষণ সংক্রান্তে মামলা রুজু হয়।

ভিকটিমের মা বাদী বকুলা আক্তার জানান, তাঁর বাকপ্রতিবন্ধী মেয়েকে প্রতিবেশী সারোয়ার আলম বাপ্পি ঘটনার দিন সন্ধ্যা সময় জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে ভিকটিমের গর্ভে একটি ছেলে (বর্তমান বয়স ৪৫ দিন) বাচ্চার জন্ম হয়। তাঁরা খুব গরীব মানুষ। তিনি ঘটনার ন্যায় বিচার চান। বাকপ্রতিবন্ধী ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে ইশারা ঈঙ্গিতে প্রকাশ করে, ভয় দেখিয়ে তার সাথে খারাপ কাজ করেছে সারোয়ার। তার কোলে থাকা বাচ্চার বাবা কে? প্রতিবেদক জিজ্ঞেস করে ভিকটিমকে কলম-প্যাড দিলে প্যাডে সারোয়ার এবং তার (ভিকটিম) নাম লিখে বাকপ্রতিবন্ধী মিলু।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, মামলা রুজুর পর থেকেই আসামী বাপ্পি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলো। গত ১৬ মে বিজ্ঞ আদালতে আত্নসমর্পণ করে আসামী বাপ্পি। বিজ্ঞ আদালত আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
অপরদিকে গত ১১ এপ্রিল ভিকটিমের গর্ভে একটি ছেলে বাচ্চার জন্ম হয়। ভিকটিম ও তার পরিবারের দাবী ওই নবজাতকের পিতা আসামী সারোয়ার আলম বাপ্পি। এমতাবস্থায় শিশুটির মাতৃত্ব ও পিতৃত্ব নির্ণয়ের জন্য ভিকটিম, নবজাতক শিশু ও আসামী বাপ্পির DNA (Deoxyribonucleic Acid- ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড-বাংলায় জিনতত্ত্ব বুঝায়) পরীক্ষা করানো হবে। বাদী, ভিকটিম, ভিকটিমের শিশু বাচ্চা ও আসামী থানা হেফাজতে আছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ ২৬ মে দুপুর ২ টার দিকে প্রতিবেদককে জানান, ভিকটিম, ভিকটিমের শিশু বাচ্চা ও আসামী সারোয়ার আলম বাপ্পি’র DNA পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

স/বি