চলে গেলেন বঙ্গবন্ধুর সহচর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সংবিধান রচয়িতা এ্যাড. মোঃ জুবেদ আলী
পিয়াস আহমদ, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধিঃ ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সংবিধান রচয়িতা ও সাবেক সাংসদ (আটপাড়া-কেন্দুয়া-৩) এ্যাড. মোঃ জুবেদ আলী বার্ধক্যজনিত কারণে আজ ৩০ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ময়মনসিংহ সানকিপাড়ায় নিজ বাসায় ইন্তেকাল করেছেন।
গণপরিষদ সদস্য হিসেবে সংবিধানে স্বাক্ষরকারী মোঃ জুবেদ আলী একজন সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। শুধু কেন্দুয়া, নেত্রকোনাই নয়, ময়মনসিংহের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনেও ছিলো তাঁর স্ব বিশেষ ভূমিকা। মোঃ জুবেদ আলী ১৯৩০ সালের ২৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলা কাউরাট নওপাড়া গ্রামে এক মুসলিম সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আরফান আলী মুন্সী, মাতার নাম ময়মনজান বিবি। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। তাঁর ৩ পুত্র এবং ৩ কন্যা।
তিনি ১৯৪৬ সনে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই ইনস্টিটিউট থেকে বিজ্ঞান শাখায় মেট্রিক পাশ করেন। আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৪৯ সনে এইচএসসি এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৫২ সনে মানবিক শাখায় স্নাতক পাশ করেন। ১৯৬২ সনে তিনি ময়মনসিংহ বারে আইন পেশায় যোগদান করেন।
অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্বের অধিকারী মোঃ জুবেদ আলী বিভিন্ন সময়ে মোট সাতবার ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সনের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমএনএ নির্বাচিত হন। ১৯৭৩, ১৯৮৬ এবং ১৯৯১ সনে আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধে ছিলো তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট অন্যতম সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি এডমিনিস্ট্রিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন
করেন।
১৯৭২ সনের ৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে গৃহীত বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন ও সংবিধানে স্বাক্ষর প্রদান করেন। স্বাধীনতা উত্তর তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ জেলার গভর্নর নিযুক্ত হয়েছিলেন।
তিনি ময়মনসিংহ শহরের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা। তিনি তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকা কেন্দুয়ায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে-বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাবু অসীম কুমার এমপি, বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের ইউনিট, ময়মনসিংহের আওয়ামী রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ এবং সমবেদনা জানিয়েছেন।
স/বি

