ঢাকাসোমবার , ২৫ এপ্রিল ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

কেন্দুয়ার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
এপ্রিল ২৫, ২০২২ ৩:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কেন্দুয়ার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম
স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের

রাখাল বিশ্বাস কেন্দুয়া নেত্রকোনা- নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র কাগজে পত্রে চালু থাকলেও অধিকাংশটিতেই স্বাস্থ্য সেবা না পাওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের। সপ্তাহে ২ দিন নির্ধারিত তারিখে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও এক দুই সপ্তাহ পর কিছু সময়ের জন্য খোলা হয় বলে অভিযোগ কোন কোনটির প্রতি। আবার খুললেও ঔষধ নেই বলে বিদায় করার অভিযোগ তুলেন অনেকেই।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহে কিছু সময়ের জন্য খোলা হলেও বার নির্ধারণ নেই। ফলে রোগীদের ভুগান্তী পোহাতে হয়। হাসপাতাল খোলা পেয়ে ঔষধের জন্য গেলে বলা হয় ঔষধ নেই। গত কয়েক দিন ঘুরে দেখা যায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোর বেহাল অবস্থা। সোমবার দুপুরে বলাইশিমুল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র গিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।

এ সময় পাশের দোকানের বারান্দায় বসা বলাইশিমুল গ্রামের প্রবীণ আব্দুল মান্নান (৮২) রইছ উদ্দীন (৭৫), জিলু মিয়া (৫৫), আতিকুর রহমান চুন্ন (৫০), এবং হবিকুল মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান সপ্তাহে ২ দিন ডাক্তার আসার কথা, কিন্তু বছর খানেক ধরে ১ জন ডাক্তার তাও অনির্ধারিত তারিখে আসেন।

গেলে বলেন ঔষধ নাই। বলাইশিমুল গ্রামের ওবায়দুল হক উজ্জ্বল জানান, তার পিতা প্রয়াত প্রক্তান শিক্ষক সাবেক ইউ.পি চেয়ারম্যান হাবিবুল হক বীরু মাস্টার এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা ভেবে বলাইশিমুল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জন্য ৩৬ শতাংশ ভূমি দিয়ে ছিলেন। আগে সপ্তাহে ২ জন ডাক্তার এলেও বর্তমানে ডাঃ খন্দকার নুসরাত জাহান তন্নি নামে একজন মেডাম মাঝে মাঝে আসেন। এতে মানুষ স্বাস্থ্য সেবা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না।

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে কান্দিউড়া, নওপাড়া, গড়াডোবার বিদ্যাবল্লভ ও গন্ডা ইউনিয়নে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। বাকি ৯ টির মধ্যে- আশুজিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র্রের দায়িত্বে আছেন আরএমও ডাঃ মাশরুফ ওয়াহিদ, দলপার বেখৈরহাটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন এসএসসিএমও আব্দুল্লাহ আল মুরাদ, সান্দিকোনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন ডাঃ সানজিদ সাখাওয়াত, মাসকা উপ-স্বাস্থ্যর কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন এসএসসিএমও জাহানারা বেগম, বলাইশিমুল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্ব আছেন ডাঃ খন্দকার নুসরাত জাহান তন্নি, চিরাং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন এসএসসিএমও তাহমিনা আক্তার, রোয়াইলবাড়ি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন এসএসসিএমও আব্দুল্লাহ আল মুরাদ, পাইকুড়া ইউনিয়নের মজলিশপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্বে আছেন এসএসসিএমও মারিফ মাহমুদ শুভ এবং মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে আছেন এসএসসিএমও মারিক মাহমুদ শুভ।

তারা কেউ কেউ ২টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বও পালন করছেন। কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিটা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার ১ জন এসএসসিএমও ১ জন, র্ফামাসিষ্ট ১জন, অফিস সহায়ক ১জন এবং একজন মিড র্নাসসহ মোট ৫ জন থাকার কথা। সেখানে ১ জনও নেই। একজন ডাক্তার বা এসএসসিএমওকে একাধিক উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তাকে নিজের হাতে চেয়ার টেবিল মুছে সপ্তাহে ২দিন অফিস করতে হয়।

কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্ত (টিএইচএ) ডাঃ এবাদুর রহমান শনিবার (২৩ এপ্রিল) বলেন, সবচেয়ে বড় সামস্যা হলো আমাদের জনবল সংকট। যেখানে ৫জন থাকার কথা সেখানে একÑদ্ইুজন কি করে সেবা দেবে। এরই মধ্যে আবার একজনকে একাধিক উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাছাড়া একজন ডাক্তার সেখানে গিয়ে নিজের হাতে অফিস পরিস্কার করে ডিউটি করতে হচ্ছে- যা কোন অবস্থায়ই কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ রয়েছে। চেয়ারম্যানগণ যদি পরিছন্নতার জন্য একজন লোক নিয়োগ করেন অন্তত সেবা দিতে সুবিধা হতো।

এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা নিবার্হী র্কমকতা মাহমুদা বেগম বলেন, জনবল সংকটের জন্য সঠিক সেবা ব্যহত হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোরগুরায় পৌঁছে দিতে আমরা স্বাস্থ্য কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

স/বি