সালাহ উদ্দীন
আমরা মাঝে মধ্যে বিনোদনের নামে সময় ফেলে নাটক সিনেমা দেখি; কিন্তু আমরা কি একটু চিন্তা করেছি যে, এই নাটক সিনেমা দেখে আমাদের কোমলমতি শিশুরা কি শিখছে? আমরা কি একটু চিন্তা করেছি এই ধর্ষণ ইভটিজিং হত্যা এবং আত্মহত্যা কিসের মাধ্যমে রীতিমত প্রোমোট করা হয়?
এটি নাটক-সিনেমার মাধ্যমে এমনভাবে আমাদের সমাজে প্রমোট করা হয় যেটি অন্য কোন ভাবে হয় বলে আমার জানা নেই।
ধরুন, আপনি টেলিভিশনে একটি সাবানের বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন একটা অর্ধঃউলঙ্গ নারী দ্বারা, এতে করে আপনার সাবানের বিক্রি বেড়ে যাচ্ছে। আপনি নাটক-সিনেমায় নায়ক-নায়িকার প্রেম দেখাচ্ছেন, কিশোর-কিশোরীরা সেসব দেখে প্রেম করা শিখছে।
তাহলে আপনি যদি, নাটক, সিনেমায় বা কোনো মিউজিক ভিডিওতে রাস্তা-ঘাটে নায়িকাকে বিরক্ত করার দৃশ্য অসাধারণ কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে, জনপ্রিয় শিল্পীদের গাওয়া মিউজিকের তালে তালে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন, তবে সাধারণ মানুষ কেন এসব দেখে ধর্ষণ বা ইভটিজিং-এর প্রতি আকৃষ্ট হবে না?
সিনেমা প্রচারের জন্য দেয়ালে পোস্টার লাগানো হয়, সেই পোস্টারগুলোতে থাকে নগ্নতায় ভরা। সেই পোস্টার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে কোমলমতি শিশুরা সিনেমা দেখতে যায়, যখন সে সিনেমায় দেখে যে, কোন ভিলেন নায়িকাকে প্রেমের প্রস্তাব দিল কিন্তু নায়িকা যখন পাত্তা দিল না, তখন একজন ভিলেন তার এক পাল বন্ধু নিয়ে নায়িকার পেছনে ছুটছে, বিরক্ত করছে, নায়িকাকে ধাক্কা দিচ্ছে, তার শরীরে হাত দিচ্ছে। একই অবস্থা নায়ক করছে, নায়িকার শরীরে হাত দিচ্ছে, নাচ-গান করছে, নায়িকা এতে বিরক্ত হচ্ছেনা। এগুলো দেখে দর্শক সারিতে বসে থাকা মানুষগুলো মজা পাচ্ছে, শিস দিচ্ছে, হাতে তালি দিচ্ছে।
সিনেমায় কেউ খুন করলে বা চুরি করলে, তার শাস্তি হওয়া দেখায় ঠিকই, কিন্তু নায়ক যে নায়িকাকে উত্যক্ত করলো, তার কোনো শাস্তি নেই, কারণ সে তো নায়ক–! সেন্সর বোর্ডও নায়িকাকে এভাবে রাস্তা-ঘাটে বিরক্ত করার দৃশ্যগুলো খারাপ চোখে দেখে না।
টিনএজ বয়সের একটা ছেলে যখন এগুলো দেখে যে, কিভাবে উত্যক্ত করে নায়িকার কাছ থেকে প্রেম আদায় করতে হয়। তখন সে এগুলো তার বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে মনস্থির করে। আর সিনেমার এসব দৃশ্য যদি সত্যিই দর্শকরা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে তাহলে সমাজের কী অবস্থা হবে তা একটু ভেবে দেখলেই বুঝা যায়। তাই সিনেমাকে প্রাক্টিস করতে গিয়ে বাস্তব জীবনের নায়িকারা হয়ে ওঠে একেকজন তনু, রিশা, নার্গিস অথবা ভারতের নির্ভয়া। আমার তো মনে হয়, সিনেমায় এসব গানের দৃশ্য দেখতে দেখতেই ইভটিজিং বা রাস্তা-ঘাটে মেযয়েদের উত্যক্ত করা যে একটা অপরাধ, সেই বোধটাই আর জন্ম নিচ্ছে না বিপথগামী তরুণদের মনে।
তাই আশা করি গড়ে উঠুক সবার মাঝে আত্ম-সম্মানবোধ। সুন্দর সমাজ ফিরে আসুক, দূরীভূত হোক সকল অশ্লীলতা।
স/এষ

