আবু নাসের হুসাইন, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের টার্গেট ছিলো আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হাসান খান সোহাগ। দেহরক্ষী জিয়া সেক জীবন দিয়ে চেয়ারম্যানকে বাঁচালেন। রোববার সকালে উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে। নিহত জিয়া ঐ গ্রামের সাহাজদ্দিন সেকের ছেলে। এ ঘটনায় সন্দেহজনক ভাবে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও আটঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদুল হাসান খান সোহাগের সমর্থক সুজন সেক শনিবার সন্ধায় গোয়ালপাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামীলীগ নেতা রাজ্জাক ও কাদের মোল্যার সমর্থক রেশান তাকে মারার জন্য ধাওয়া দেয়। এরই জের ধরে রোববার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে দুই গ্রুপের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ঢাল-কাতরা, সড়কি-ভেলা ও রামদা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন সময় পাশ্ববর্তী কানাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির মো: বেলায়েত হোসেনের ২/৩ শতাধিক লোক গিয়ে রাজ্জাক, কাউছার ও কাদের মোল্যাকে সমর্থন দিয়ে আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হাসান খান সোহাগের বাড়ীতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাংচুর করে। এ সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের টার্গেট ছিলো চেয়ারম্যান সোহাগ খানকে জীবনে শেষ করে দেওয়ার। সেই টার্গেট নিয়েই প্রতিপক্ষরা বাইরের লোকজন এনে চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে চেয়ারম্যানের ব্যাক্তিগত দেহরক্ষী জিয়া সেক প্রতিপক্ষের হাতে মারাত্মক আহত হয়। আহতবস্থায় তাকে ফরিদপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। এছাড়াও এই হামলায় চেয়ারম্যানের বাবাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যাক্তি আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক ব্যাক্তি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এসময় অন্তত ৪০ টি বসত বাড়ি ও দোকান-পাট ভাংচুর করে প্রতিপক্ষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ৫জনকে আটক করেন।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আমিনুল হক বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় সন্দেহজনক ভাবে ৫ জনকে আটক করা হয়।
স/এষ্

