ঢাকারবিবার , ৩০ এপ্রিল ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইবি শিক্ষার্থীর নতুন উদ্ভাবন

admin
এপ্রিল ৩০, ২০১৭ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইমানুল সোহান, ইবি প্রতিনিধি-
আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনস্বীকার্য। বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, শিল্প কারখানা, হোটেলসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক বিজ্ঞান তৈরী করেছে নানা যন্ত্রপাতি। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মোঃ নিয়াজ মোস্তাকিম নামে এক শিক্ষার্থী উদ্ভাবন করেছেন ‘স্মার্ট ইন্টেলিজেন্ট হোম এন্ড ভারসেটাইল হোম সিকিউরিটি সিস্টেম’ নামে নতুন একটি যন্ত্র। দীর্ঘ দুই বছর ধরে গবেষণার পর তিনি এ যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। যেটা নিরাপত্তাসহ বহুমুখী কাজে ব্যবহার করতে পারবে।
আধুনিক সিকুউরিটি ও সব সুযোগ সুবিধার সমন্বয়ে তৈরী করা হয়েছে নতুন উদ্ভাবিত ওই যন্ত্রটি। যন্ত্রটির সাহয্যে স্মার্ট ইনটেলিজেন্ট হোম সম্পূর্ণ নিরাপত্তায় পরিচালনা করা যাবে। বাড়ির প্রবেশপথে একটা কি প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আনলকড সিকুউরিটি গেট সিস্টেম। বাড়ির দরজা কি প্যাডে পাসত্তয়ার্ড দিয়ে খুলতে হবে। বাসার সামনে রয়েছে একটি ডিসপ্লে ইনডিকেটর লাইট। গেটটি আনলক হলে ডিসপ্লে ও লাইট এ সংকেত দিবে।
বাড়ির বাউন্ডারী লাইনে ব্যবহার করা হয়েছে একটি কলিং বেল । যা প্রেস করা মাত্রই ক্যামেরা চালু হবে এবং ভিডিও রেকডিং শুরু হবে। এটি বাড়ির ভিতরে মনিটরে দেখা যাবে। যদি পরিচিত কেউ হয় তবে বাড়ির মালিক অ্যানড্রেট অ্যাপলিকেশন এর মাধ্যমে ভিতর থেকে দরজা খুলে দিতে পারবে।
বাউন্ডারী লাইন এর সামনে কেউ ঘুরাফিরা করলেও সোনার সেন্সর তা ডিকেট করে আর একটি ক্যামেরা চালু করে দিবে যা অটোমেটিক ভিডিও রেকর্ড করবে। সন্ধ্যায় বাড়িটির বাউন্ডারী লাইট অটোমেটিক চালু হবে এবং সকালে তা বন্ধ হবে। এটি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে একটা ডিজিটাল ঘড়ির সময় অনুযায়ী।

বাড়ির মেইন গেটে সিকিউরিটি হিসেবে ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর লাগান আছে। এটি বিশটি ফিঙ্গার প্রিন্ট নমুনা মেমরিতে জমা রাখতে পারে। শুধুমাত্র ফিঙ্গার প্রিন্ট মিললেই এই গেট খুলবে এবং কিছু সময় পর বন্ধ হয়ে যাবে।

বাড়ির গেটে হিউম্যান কাউন্টার আছে যা বাড়ির ভিতরে কতজন মানুষ রয়েছে তা ডিসপ্লেতে দেখাবে। কেউ ভিতরে প্রবেশ করলেই ঐ কক্ষের লাইট অন হবে এবং ভিতরে কে আছে তা পরিষ্কার দেখা যাবে। এখানে দুইটি পার মেশন সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে যা সম্পূর্ণ স্পেস মনিটর করবে। এই সেন্সর ডিটেক্ট করে বাড়ির মালিকের স্কাইপি একাউন্ট এ ভিডিও কলিং শুরু হবে।

রান্নাঘর সিকুউরিটি হিসাবে ফ্লেম সেন্সর, গ্যাস সেন্সর এবং স্মোক সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। কখনও ফ্লেম সেন্সর ডিটেক্ট করলে ফায়ার সার্ভিসকে মেসেজ দিয়ে বাড়ির ঠিকানা জানাবে। গ্যাস সেন্সর গ্যাস ডিটেক্ট করলে বাড়ির মালিককে অডিও কল এর মাধ্যমে জানাবে। স্মোক সেন্সর স্মোক ডিটেক্ট করলে বাড়ির মালিককে মেসেজ দিয়ে জানাবে। এখানে তাপমাত্রা মাপার জন্য একটি সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে যার তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির উপরে গেলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানাবে।

ভূমিকম্পের সংকেত বুঝার জন্য একটা সেন্সর ব্যবহার করা আছে যা ভাইব্রেশন হলেই ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানাবে। বাড়ির ছাদে ওয়াটার সেন্সর লাগানো আছে। বৃষ্টির পানি হলে তা ফেসবুকে একটা পোস্ট দিবে এবং বাড়ির জানালাগুলো অটোমেটিক বন্ধ করে দিবে।

বাড়ির ভিতরে কেউ বিপদে পড়লে ইমার্জেন্সি বেল আছে যা দিয়ে প্রতিবেশিকে ডাকা যাবে। এখানে প্রতিবন্ধিদের জন্য একটা সাউন্ড সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে যেকোনো সাউন্ড এর মাধ্যমে কাউকে ডাকতে পারবে।

দূর থেকে বাড়ির মধ্যের কোনো ডিভাইস কন্ট্রোল করার জন্য জিএসএম মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে যার মাধ্যমে যে কোনো জায়গা থেকে বাড়ির মালিক বাড়ির হিটার, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশনার অফ বা অন করতে পারবে। অফ বা অন হওয়ার পর মেসেজ দিয়ে জানাবে।

বাড়ির স্টোর রুমে একটা মেসেজ কন্ট্রোলড লকার আছে। যা মেসেজ দিয়ে অন বা অফ করা যাবে। এই স্টোর রুমের সিকিউরিটি হিসেবে এর সামনে একটা আই আর সেন্সর ব্যবহার করা আছে। এর সামনে কেউ আসলে সঙ্গে সঙ্গে তার ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্টে করবে যা থেকে মালিক কাউকে সনাক্ত করতে পারবে।

দূরে থেকেও মালিক বাড়িকে রক্ষা করতে পারবে তার প্রতিবেশীকে জানানোর মাধ্যমে। এর জন্য মেসেজ কন্ট্রোল বারজার এর ব্যবস্থা আছে। মেসেজ দিয়ে বারজার অন বা অফ করতে পারবে।

এখানে ওয়াইফাই মডিউল ব্যবহার করা হয়েছে। যা দিয়ে রুমে বসে ফ্যান, ওয়াটার পাম্প, লাইট, বারজার কন্ট্রোল করা যাবে। এর জন্য একটা ওয়েবপেজ আছে যাতে কয়েকটা বাটন আছে। এই সব বাটন ক্লিক করলে এসব ডিভাইস অন বা অফ হবে। বায়ুর চাপ মাপার জন্য এখানে ব্যারোমেট্রিক প্রেসার সেন্সর ব্যবহার করা আছে।
এই সিস্টেম এর মাধ্যমে একটা বেডরুম ডিজাইন করা হয়েছে। যার মধ্যে একটা ডিজিটাল ঘড়ি আছে এবং ভয়েস কন্ট্রোল কিছু ফাংশন চালু আছে। ব্লটুথ ও এনড্রোইড অ্যাপস এর মাধ্যমে বেডরুম লাইট, বাথরুম লাইট, কম্পিউটার অন বা অফ করা যাবে।
এছাড়া এখানে হিউমিডিটি ও টেম্পারেচার সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। হিউমিডিটি ও টেম্পারেচার বেড়ে গেলে তা কমানোর জন্য ফ্যান, লাইট অটোমেটিক অন হবে। এছাড়া ব্লটুথ ও এনড্রোইড অ্যাপস এর মাধ্যমে বাড়ির ভিতর থেকে বাহিরে কত দূরে কেউ আছে তাও দেখা যাবে। এছাড়া ব্লটুথ ও এনড্রোইড এপস এর মাধ্যমে মিউজিক অফ বা অন করার ব্যবস্থা ও আছে।
নিয়াজ মোস্তাকিম এর উদ্ভাবিত এই সিস্টেম ইতিমধ্যে দারুন আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই গবেষণা কাজে নিয়াজ মোস্তাকিমকে সার্বিক তত্ত্বাবধায়ন করেছেন ওই বিভাগের অধ্যাপক মোঃ খালিদ হোসেন জুয়েল এবং অধ্যাপক মোঃ খলিলুর রহমান। গবেষণাটির তত্ত্বাবধায়ক মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ এর সফল রূপায়ন এর জন্য এই ‘ইনটেলিজেন্ট অটোমেটিক হোম সিস্টেম’ টি একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। এই ব্যাপারে তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাবলীল, উপযুক্ত ভূমিকা ও পৃষ্ট পোষকতা আশা করেছেন।”

স/এষ্