ঢাকাসোমবার , ৭ মার্চ ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

রাজপথের সাহসী ও সংগ্রামী নারী যোদ্ধা অপু উকিল –

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
মার্চ ৭, ২০২২ ২:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজপথের সাহসী ও সংগ্রামী নারী যোদ্ধা অপু উকিল

আসাদুজ্জামান খান সোহাগ-ক্ষণজন্মা পৃথিবীতে যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে জন্মগহণ করেছেন অসংখ্য মহীয়সী নারী । দেশ ও জাতির কল্যাণে তাঁরা রেখেছেন অসামান্য অবদান । অন্যান্য দেশের ন্যায় এদেশেও জন্ম হয়েছে অনেক জ্ঞাণী,গুনী,প্রগতিশীল ও রাজনৈতিক সচেতন নারীর । তেমনী বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে;বর্তমানে আধুনিক নারী জাগরণের ক্ষেত্রে-অপরীসীম ভূমিকা রেখে চলেছেন রাজপথের এক সাহসী ও সংগ্রামী নারী যোদ্ধা অধ্যাপক অপু উকিল । শরীয়ত পুর জেলার পালং উপজেলার স্বর্ণগোষ গ্রামের মেঠো পথ ধরে শুরু হয়েছিল তাঁর পদচারণার প্রারম্ভিকা । জ্ঞান হবার পর থেকে-তিনি অনন্ত অসীম প্রেমময় দুনিয়ায় মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন । পদ্মা পাড়ের কন্যা হিসেবে খ্যাত স্বর্ণ গ্রামের স্বর্ণ কেশরী অপু উকিল ।

এ বসুমতিতে শুভ রশ্নি ছড়িয়ে ১৯৭২ সালের ৯ জানুয়ারী মাতা আভা রানীর ঘোষের ক্রোড়ে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন । অপু উকিলের সেই জন্ম তিথির আলোকিত শুভ রশ্নির বিচ্ছুরণে;পিতা বাসুদেব ঘোষের পলকে যেন ঝলক মেরেছিল-কৃষ্ণ মুকুটের রং ধনুর সাত রং । অতপর: মা-বাবার স্নেহ আতিয্যে বড় হতে থাকে প্রিয় দূর্গার আর্শীবাদপুষ্ঠ মানবী অপু । খেলার সাথী আর পড়ার সাথীদের সাথে মিলেমিশে থাকা ছিল তার স্বভাববৈশিষ্ট্য । সময় পরিক্রমায় এক হাতে বীণা ও অন্য হাতে পুস্তকধারিণী,সতত রসে সমৃদ্ধা বিদ্যাদেবী স্বরসতীর আশীর্বাদে লেখাপড়ায় হাতেখড়ি হয় অপু উকিলের ।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই মেধাবী ছাত্রী হিসেবে সকলের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি । সকলের প্রিয় অপু ধানুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে প্রথম গ্রেড এ বৃত্তি ও শরীয়তপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে সকলের মুখ উজ্বল করেন । পড়াকালীন সময়ে এ সর্বদাই প্রথম স্থানে থেকে কৃতিত্বের সাথে চলতে থাকে তাঁর পড়াশোনা । মেধাবী ছাত্রী হিসাবে তিনি হতে থাকেন ব্যাপক প্রশংসিত। মাধ্যমিক শিক্ষা জীবনে ভাগ্যকুল হরেন্দ্রলাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন শরীয়তপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে । সেখান থেকে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে এইচ,এস,সি পাশ করেন । পরে আরোও অধিকতর শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার বুকে পদার্পন ঘটে অপু উকিলের ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বদরুন্নেসা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে বি,এস,এস (অনার্স ) এবং এম,এস ,এস ডিগ্রী লাভ করেন অপু উকিল । শিক্ষা জীবন শেষে মানুষ গড়ারর কারিগর হয়ে তেজগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন । জ্ঞান বিতরণ করা ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ একটি কাজ । তাইতো তিনি অধ্যাপনার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করেন। শৈশব থেকেই অপু উকিল খেলাধুলায় ছিলেন ভীষণ পারদর্শী । তার প্রমাণে কাবাডি,সাঁতার ,ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন বহুবার। খেলাধূলায় পারদর্শী অপু উকিল ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অল রাউন্ডার ।

স্কুল জীবন থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিতর্ক ,একক অভিনয় ,উপস্থিত বক্তৃতা, রম্যরচনা,গল্প বলা,স্বরচিত কবিতা আবৃতি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন,পেয়েছেন অনেক সনদপত্র । অধ্যাপক অপু উকিল শৈশবকাল থেকেই ছিলেন মানবদরদী । বাড়ির পাশে কীত্তিনাশা নদীর পাড়ে যাযাবরদের জীবন যাপন দেখে তার ভিতরে জাগে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ে চিন্তা । অসহায় হত দরিদ্র মানুষদের সাহায্য সহযোগিতার জন্য তার হৃদয়ে ওঠে দয়ার ঢেউ ।

এছাড়াও জীবে প্রেম করে যেইজন,সেইজন সেবিছে ঈশ্বর মর্মবাণী হৃদয়ে ধারণ করে বিভিন্ন সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সমাজ এবং সাহিত্য সংস্কৃতিকে পরিশুদ্ধ করার জন্য বহু অবদান রেখেছেন। “কবিতার আসর “,”কলমিলতা ” এবং “পানকৌড়ি ” তার নিজ হাতে গড়া সংগঠন । যার মাধ্যমে সমাজের ঝরে পড়া অসহায় জীবের পাশে অপু উকিল শিশুকাল থেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অপু উকিল মূলত তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন নিবেদিত প্রাণের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তিনি রাজনৈকি জীবনে বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক,এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ।

ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন । স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে মিছিলে শ্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়েছেন তিনি। বদরুন্নেসা কলেজ ছাত্রসংসদে জি,এস পদে নির্বাচন করে জয়ী হলেও ফলাফল আটকে রাখা হয়।

অধ্যাপক অপু উকিলের বায়োগ্রাফি থেকে জানা যায়-২০০২ সালের ৬ জুলাই অপু উকিল বাংলাদেশ যুব মহিলালীগের প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ২০০৪ সালের ১৬ মার্চ তিনি বাংলাদেশ মহিলালীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ১১ মার্চ জননেত্রী শেখ হাসিনা অপু উকিলকে দ্বিতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করেন। অতীতের রাজপথ কাপাঁনো ছাত্র রাজনীতির আপোষহীণ সংগ্রামী নেত্রী এখনও যুব নারী সমাজের আশা-আকাঙ্খা ও স্বপ্ন অভিযাত্রার নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামাত জোটের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিটি মুহূর্তে রাজপথে থেকে প্রতিবাদ,প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তিনি । ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী ওয়ান ইলেভেন সরকার অবৈধ ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে অন্যায় ভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে।

অপু উকিল অবৈধ সরকার এর রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার জন্য দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল সর্বপ্রথম যুব মহিলালীগের পক্ষ থেকে গণ সাক্ষর কর্মসূচি গ্রহণ করেন এবং ২ লক্ষ মা বোনের সাক্ষর লিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জমা দেন।

২০০৮ সালের ২৪ মার্চ অপু উকিল যুব মহিলালীগের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামীলীগ অফিসে শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে “গণ অনশন ” কর্মসূচি পালন করেন। ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল তিনি অসুস্থ শেখ হাসিনার মুক্তি এবং সুচিকিৎসার জন্য বিভাগীয় “প্রতিনিধি সভার ” আয়োজন করেন।

স/বি