শাহ আলম, গোয়াইনঘাট থেকেঃ
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় পাহাড়ী ঢল ও স্থানীয় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া চলতি বোরো মৌসুমের ফসলসহ এ উপজেলাবাসীর বিগত ৮বছরে প্রায় ১শ ৭১ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এ উপজেলা দিয়ে প্রবাহমান নদীগুলো খনন না করা ও হাওর গুলিকে বেড়ীবাধেঁর আওতায় না নিয়ে আশায় এ উপজেলাবাসীর ফসল হানির অন্যতম কারণ। গতকাল বুধবার বেলা ২টায় গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময়কালে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি আরো জানান এ উপজেলাটি আয়তনের দিক দিয়ে মেহেরপুর জেলার চেয়েও বড়। ৯টি ইউনিয়নের এ উপজেলায় প্রায় ৩ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। উপজেলার সিংহভাগ মানূষ কৃষি জমি ও পাথর কোয়ারী নির্ভর। গত ৮বছর থেকে দফায় দফায় বন্যা হয়ে উপজেলাবাসীর প্রতি বছর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হওয়ায় বর্তমানে জনসাধারন যেন মেরুদন্ডহীন অবস্থায় বসবাস করছেন। তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, চলতি মৌসুমে সরকারী হিসেবে ৪ হাজার ৩শ ২০ হেক্টর ফসলী জমির সম্পূর্ণ ধান নষ্ট হওয়ার তথ্য প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ৮হাজারেরও অধিক জমির ফসলহানী হয়েছে। সরকারি দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সিলেট জেলার মধ্যে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এ উপজেলা। ক্ষয়ক্ষতির হিসেব মতে সরকারি যে বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে তা এ উপজেলার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অত্যান্ত অপ্রতুল। এমতা অবস্থায় এ উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমান সরকারি বরাদ্ধ জরুরি প্রয়োজন। তিনি বিগত ২০০৮ সাল থেকে ২০১৭পর্যন্ত বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির সরকারি একটি পরিসংখ্যাণও উপস্থাপন করেন। পরিসখ্যাণটিতে দেখা গেছে ২০০৮ সালে বন্যায় ক্ষতির পরিমান ১৮কোটি টাকা, ২০১০সালের প্রথম দফার বন্যায় ক্ষতি ২২কোটি ৭৮লক্ষ টাকা, ২য় দফা বন্যায় ক্ষতি ১কোটি ৩৮লক্ষ টাকা, ২০১১সালে ক্ষতি ৯৫লক্ষ টাকা। ২০১২ সালে প্রথম দফায় ক্ষতি ৭৫লক্ষ টাকা, ২য় দফায় ৮কোটি টাকা। ২০১৪ সালে ক্ষতি প্রথম দফায় ৩৩কোটি টাকা, ২য় দফায় ১০কোটি টাকা, ২০১৫ সালে ২কোটি ১৫লক্ষ টাকা, ২০১৬ সালে প্রথম দফায় ৩৫কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা, ২০১৬সালে ২য় দফায় ক্ষতির পরিমাণ ৩কোটি ৭১লক্ষ টাকা, সর্বশেষ ২০১৭সালের চলতি মৌসুমে পাহাড়ীঢল ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩৫কোটি টাকা। এছাড়া প্রবল ঝড় ও ভারী বর্ষনে ৩শ ১৪টি বসতঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করেছে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১১হাজার ৪শ ৯০টি বসতঘর। উপজেলা চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পর্যাপ্ত ডেউটিনসহ সরকারি বরাদ্ধ দেওয়ার আবেদন করেন। মতবিনিময় কালে উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মতিন, সাবেক সভাপতি মন্জুর আহমদ, সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মো.আলী হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিরিয়া হেলাল, আরিফ ইকবাল নেহাল, মাহবুব আহমদ প্রমুখ।
স/এষ্

