এবার অনেকটা আগেই বর্ষা শুরু হয়েছে। বর্ষা আগমনের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর এডিস মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের হারও বেড়েছে। এ চিত্র দেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত সতর্ক না হলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বিগত দিনের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি হতে পারে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বর্ষার মৌসুম শুরু হওয়ায় এ আশঙ্কার মাত্রা বেড়ে গেছে। তবে চলতি বছরের চার মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবকে অনেকটা রেকর্ড বলা যায়। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১২৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন শুধু জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত। এর আগে ২০০০ সালে ছিল ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জুন থেকে অক্টোবর সময়ে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও এবার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বর্ষার মৌসুম আগেভাগেই আসায় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে জন্মানোর সুযোগ পাচ্ছে এডিস মশা। জানা গেছে, গত বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৭১। এর মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সারা দেশে বছরজুড়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ২০; যা ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চসংখ্যক। ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের শতাংশের তুলনায় চলতি বছরের চার মাসের পরিমাণ শুধু ১ শতাংশ কম। আর গত বছরের তুলনায় তা ৬ শতাংশ বেশি। স্বাস্থ্য অধিদফতর ও ইপিডেমোলজি ডিজেজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের (আইইডিসিআর) অনুসন্ধানে রাজধানীর কাঁঠালবাগান ও কলাবাগান এলাকার বস্তিতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব থাকার চিত্র উঠে এসেছে। এ বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব ইপিডেমোলজি, আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, যেহেতু এখন বৃষ্টি হচ্ছে তাই ডেঙ্গুর আশঙ্কা রয়েছে অনেক। এর জন্য প্রত্যেককে তার আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময়ের জন্য জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এই এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সিটি করপোরেশন থেকেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে।
স/এষ্

