বন্ধ ॥ দূর্ভোগ চরমে
তাপস কুমার, নাটোর:
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ¦ালানি বরাদ্দ না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে এ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ আছে। ফলে রোগীসহ স্বজনদের চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছেন, উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। কবে নাগাদ এ বরাদ্দ পাওয়া যাবে তাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভুক্তভোগী এজাজুল হক জানান, ২১ এপ্রিল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯ টায় তার স্বজন আনোয়ারা (৭০) স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোগীকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় ওই অবস্থায় মাইক্রোবাস ভাড়া করেন রোগীর স্বজনরা। অপরদিকে রোগীর জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন থাকায় হাসপাতাল থেকে বন্ড দিয়ে সিলিন্ডার তুলতে হয় মাইক্রোবাসে। আর এসব করতে পার হয়ে যায় দেড় ঘন্টা। অবশেষে আনোয়ারা কে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা গেলেও কিছু সময় পর তিনি মারা যান। এছাড়াও গত ১৮ এপ্রিল শুকরিয়া নামের এক শিশু রোগী ও লুৎফর রহমান নামের অপর রোগীকে এ্যাম্বুলেন্স সেবা না পেয়ে নিতে হয় প্রাইভেট মাইক্রোবাসে।
এ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুস সালাম বলেন, গত তিন মাসের প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকার বিল বকেয়া আছে তেল পাম্পে। বরাদ্দ না থাকায় ওই বিল পরিশোধ করা যায়নি। এ কারনে এ্যাম্বুলেন্স বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ১০ তারিখ থেকে জ¦ালানী বরাদ্দ না থাকায় এম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকে। তবে রোগীদের নিজ খরচে ১৭ তারিখ পর্যন্ত এ সেবা চালু রাখা গেলেও পরে অফিসিয়াল কারনে একদম বন্ধ রাখা হয় এই সেবা। কবে নাগাদ পেতে পারে জ¦ালানী বরাদ্দ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক বরাবর লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তবে কবে জ¦ালানী বরাদ্দ আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
তবে মুমূর্ষ রোগীদের দ্রুত উন্নত সেবা নিতে নাটোর সদরসহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছুতে রোগীদের দূর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স/ এষ্

