হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে শ্বশুরবাড়ির লোকদের অমানবিক নির্যাতনে আহত হয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনার পর শিক্ষিকা নিজে বাদি হয়ে স্বামী, শ্বশুর ও ননদ এই ৩জনের নামে মামলা করলে পুলিশ শিক্ষিকার শিক্ষক স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। নির্যাতিত এই শিক্ষিকার নাম মৌসুমী আক্তার(৩০)। সে ফরিদপুর শহরের সাজেদা কবিরউদ্দিন সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা। তার বাড়ি সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের নতুন বাজার গ্রামে।
নির্য়াতিত শিক্ষকা মৌসুমী আক্তার জানান, ৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে আমার ফরিদপুর শহরের পূর্ব আলীপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মামুনুর রহমান এর পুত্র সদরের গেরদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ওয়াজির মামুন তমাল এর সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে শ্বশুর, স্বামী ও ননদ তাকে চাকুরীর টাকা পয়সা এবং পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মারধর করতো। ননদ হাড়োকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তমালিকা নাসরীন নিশি বিয়ের পরও বাপের বাড়ি থেকে তাদের এই নির্যাতনের সহযোগি হিসাবে নির্যাতন করে।
গত ১৬এপ্রিল রাতে তারা তিন জন সন্মিলিতভাবে তাকে মারধোর করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ননদ তাকে গলায় শাড়ি পেছিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। নির্যাতিত শিক্ষকার ভাই রাসেল মাহমুদ জানান, আমারা পরিবারের লোকজন আহত বোনকে উদ্ধার করলেও ওর শ্বশুর বাড়ির লোকদের হুমকির মুখে ফরিদপেেুরর কোন হাসপাতালে ভর্তি করতে না পেরে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে তাকে রাতেই ভর্তি করে। এ ব্যাপারে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ দেওয়ার পর নির্যাতিতা মৌসুমী আক্তার নিজে বাদি হয়ে বুধবার মামলা করলে বুধবার সন্ধ্যায় স্বামী তমালকে পুলিশ গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
স/ এষ্

