নদীর বুকে জেগে উঠেছে হাজার হাজার বিঘা জমি, চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ফসল, স্বল্প খরচে মুনাফা গুনতে শুরু করেছে চাষীরা
তাপস কুমার, নাটোর:
নাটোরের লালপুর উপজেলার তিলকপুর, নবীনগর ও গৌরীপুর পর্যন্ত ৪ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা ব্যায়ে ৯৬৫ মিটার নদী শাসনের কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখতে শুরু করেছে এলাকাবাসী।
প্রকল্প এলাকা ঘুরে জানা যায়, প্রায় শত বছর আগে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া হাজার হাজার বিঘা জমি আবার চর জেগে উঠতে শুরু করেছে। লক্ষীপুর এলাকার আব্দুস সামাদ (৬৫) ও কাউসার মন্ডল (৬০) জানায়, এই এলাকায় জমির দাম ছিল না, দালান বাড়ি ঘর করার চিন্ত করতে পারতাম না, কখন বুঝি সর্বনাশা পদ্মা নদীতে গ্রাস করে নিবে বাড়ি ঘর। পদ্মার পারের মানুষ সবসময় চিন্তা আর হতাশা নিয়ে রাত্রি বেলা ঘুমাতো। হাজার হাজার মানুষের বসত বাড়ি ঘর এই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাড়ার পর পাড়া গ্রামের পর গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার চিত্র আমাদের চোখের সামনে এখনো ভেসে উঠলে শিহরন জাগে।
তারা আরও বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ এর কাজ শুরু করায় নদীর পাড়ে আমরা আজ দালান বাড়ি ঘর করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। নদীর বুকে জেগে উঠেছে হাজার হাজার বিঘা জমি। যে জমিতে চাষ করা হচ্ছে মশুর, মটরশুটি, বাদাম, কলা, আখ ও সবজি জাতীয় ফসল। চরে এসব ফসল চাষে স্বল্প খরচে মুনাফা গুনতে শুরু করেছে চাষীরা।
কাউসার মন্ডল জানায় এই প্রকল্পের কাজটি বাস্তবায়ন করায় এই এলাকার মানুষ মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ কে ধন্যবাদ জানায়।
২নং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা জানায়, নদী শাসনের কাজটি শেষ হবে আগামী মে মাসে।
জানা যায়, ১৫ অক্টোবর ২০১৬ সালে শনিবার সকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষীপুর পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষন আর সি.সি ব্ল¬ক স্থাপন ১ম সংশোধিত শীর্ষক প্রকল্পের লালপুর উপজেলার তিলকপুর হতে গৌরীপুর পর্যন্ত ৪ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা ব্যায়ে ৯৬৫ মিটার কাজের উদ্ধোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ।
উলে¬খ্য, পাবানা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার কোমরপুর হতে সাঁড়া ঝাউদিয়া পর্যন্ত ও লালপুর উপজেলার তিলকপুর হতে গৌরীপুর পর্যন্ত ২২৬কোটি ৪লক্ষ ৯১হাজার টাকা ব্যায়ে ৭.৫৮৫ কিলোমিটার পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষন আর সি.সি ব্ল¬ক স্থাপন ১ম সংশোধিত শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
স/ এষ্

