ঢাকামঙ্গলবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

শিল-পাটা খোদাই করেই জীবিকা নির্বাহ করেন বৃদ্ধ দুলাল মীর

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১ ৮:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শিল-পাটা খোদাই করেই জীবিকা নির্বাহ করেন বৃদ্ধ দুলাল মীর

রাখাল বিশ্বাস, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি- ‘শীল-পাটা কাটাবেন শিল-পাটা ? এই হাঁক ছেড়ে সকাল হতে সন্ধা পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিল-পাটা খোদাই করে ৫০ বছর ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন কেন্দুয়ার দুলাল মীর (৭০) নামে বৃদ্ধ খোদাই কারিগর।

এই পেশাকে ভালবেসে আমৃত্যু খোদাই কাজ করে যেতে চান তিনি। গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে কথা হয় খোদাইশিল্পী দুলাল মীরের সঙ্গে। তিনি জানান, তার জীবনের পংতিমালা। নেত্রকোনার কেন্দয়া উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা কোনাপাড়া গ্রামের মীরবাড়ির আব্দুল ওয়াহেদ মীরের ছেলে দুলাল মীর। তিনি গ্রামের স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন। পিতামৃত আব্দুল ওয়াহেদ মীরও শিল- পাটা খোদাইয়ের কাজ করতেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই দুলাল মীর পৈতৃক পেশায় নাম লেখান। সংসারে স্ত্রী, ৪ ছেলে, ৩ মেয়ে। তার মধ্যে ২ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ৩ ছেলেও বিয়ে করে আলাদা থেকে স্বর্ণের কাজ করেন। তারা বাবা মাকে দেখেন না বলে অভিযোগ করেন। ফলে বৃদ্ধ বয়সেও গ্রামে গ্রামে ঘুরে এ কাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে স্ত্রী, বিবাহযোগ্যা এক মেয়ে এবং কিশোর ছেলে রবিন কে নিয়ে ৪ সদস্যের সংসার চালাতে তিনি হিমসিম খাচ্ছেন প্রতিদিন। বয়স্তভাতার কার্ড হওয়াতে কিছুটা স্ব:স্তি পেয়েছেন।

তিনি জানান, আজ থেকে ৫০ বছর আগে ১টি ছোট হাতুড়ি, ১টি প্লাস, ১টি কেচি, ক’টি পাটা কাটার ছেনা দিয়ে ব্যবসা শুরু করে ছিলাম। যা আজও চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বেড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে পাটা-শিল, টিন ও সিলভারের ভাঙ্গাচুরা জিনিস মেরামত করে ৪ থেকে ৫শ টাকা রোজগার হয়। তাতেই কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি।

পেশাটি করতে গিয়ে ভালবাসা জন্মেছে। ফলে কষ্ট হলেও আমৃত্যু এটিই করে যেতে চাই। দুপুরে খাবার কিভাবে হয় জানতে চাইলে দুলাল মীর বলেন, দয়াকরে কারও বাড়িতে দুপুরে খাওয়ালে খাওয়া হয়- নইলে অপোষ থেকে রাতে বাড়ীতে যা যোগাড় হয় তাই খাই। বাজারে দোকানদারের পাটা-শিল কাটলে কিছু বেশি রোজগার হতো। এখন শরীরে না দেওয়ায় খুব কষ্ট করে চলতে হচ্ছে। কোন দিন অসুখ হলে বা কাজে যেতে না পারলে অপোষ থাকতে হয়। সকলের কাছে দোয়া চাই যাতে সুস্থ্য থেকে এ কাজ করেই মরতে পারি।

স/বি