ঢাকাশুক্রবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

কেন্দুয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারামারির পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রামে গ্রেফতার আতংক

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২১ ৭:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কেন্দুয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারামারির পাল্টাপাল্টি মামলায় গ্রামে গ্রেফতার আতংক

ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না শিক্ষার্থীরা

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি- জমি সংক্রান্ত বিরোধে কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের জুড়াইল গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় দুইটি পাল্টা পাল্টি মামলায় কয়েক অজ্ঞাতসহ ৭০ জনকে আসামী করা হয়েছে। এতে গ্রামে গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে পুলিশ দুই পক্ষের মফিজ উদ্দিনের ছেলে নিজাম উদ্দিন (৬৫) এবং মুর্ত্তুজ আলীর ছেলে আব্দুর রউফ খোকন (৬০) কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

একই গ্রামর ২ পক্ষের পাল্টা পাল্টি মামলার কারণে জুড়াইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি অর্ধেক কমে গেছে বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান। তিনি জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর মারামারি ঘটনা ঘটে।

১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলা হয় কিন্তু উপস্থিতির হার অনেক কম। ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সরজমিনে গেলে শিক্ষক জানান, ৫ম শ্রেণীর ৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২৬ জন। উক্ত বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পা আক্তার, প্লাবন, রকি, রিফাত জানায়, মারামারি ও মামলার কারণে গ্রামে আতংক বিরাজ করছে। পুলিশের ভয়ে আমরা স্কুলে আসিনি।

আজও ভয়ে ভয়ে স্কুলে এসেছি। পরে জুড়াইল গ্রামের নিজাম উদ্দিনের বাড়িতে গেলে তিনি জানান, জুড়াইল গ্রামের দুলাল মিয়া এবং হাসেন আলীর কাছ থেকে সমান ভাগে ৩০ শতক জমি ১৯৮৮ ইং সনে ৫ হাজার টাকায় ক্রয় করি। ২ বছর পরে একই গ্রামের নসিমুদ্দিনের কাছে ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিই। কিন্তু দলিল রেজিষ্ট্রি হয়নি। এমতবস্থায় গত বছর জমিটি আবার তিনি উক্ত টাকায় ফিরিয়ে নেন। এ সময় জমিটির সাবেক মালিকের নাতী মস্তু মিয়া গং ওয়ারিশান হিসেবে জমিটি তাদের বলে দাবী করেন।

এ নিয়ে গ্রামে কয়েকটি সালিশ হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের বেশ কয়েকজন জানান, গ্রামের সালিশে জুড়ি বোর্ডের মাধ্যমে ১০ শতাংশ জমি মস্তু গংদের দিয়ে মিমাংশা করতে চাইলে তারা সবটুকু জমি অর্থ দিয়ে ফেরত নিতে চান। কিন্তু নিজাম উদ্দিন এই ভাবে জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় সালিশ ভেঙ্গে যায়। পরে মস্তু গং জমিতে দখল নিতে চাইলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে হবি মিয়া ও আমিনুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিজাম উদ্দিন বলেন, দরবারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা ১ কাঠা (১০ শতাংশ) জমি দিতে রাজী হয়ে ছিলাম কিন্তু মস্তুগং তা প্রত্যাক্ষাণ করে জমিতে ধান রোপন করতে গেলে মারামারি হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর সাদেক মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ২৯ জনকে আসামী করে কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে মস্তু মিয়া জানান, এই জমি আমার বাপ-দাদার। নিজাম উদ্দিনের কাছে বিক্রি করলেও তারা দলিল দেখাতে পারেনি। নিজাম উদ্দিন নসিউদ্দিনের কাছ থেকে বিক্রি করা জমি ফেরত নেন। আমরা সেই টাকা দিয়ে জমি ফেরত নিতে চাই।

কিন্তু তারা আমাদের জমি আমাদেরকে ফেরত না দিয়ে বাড়িতে এসে হামলা করে মানুষদের আহত করেছে। ফলে আমার ছেলে ফরিদ মিয়া বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের ৩২জনকে আসামী করে ৮ সেপ্টম্বর কেন্দুয়া থানায় মামলা করে। এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহনেওয়াজ জানান, জুড়াইল গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মারামারির প্রেক্ষিতে দুটি মামলা হয়েছে।

দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়ে ছিল। বাচ্চাদের স্কুলে আসতে তো কোন সমস্যা নেই। কোন সমস্যা মনে করা হলে আমাদের জানালে বাচ্চাদের সহযোগিতা করা হবে। তাছাড়া আসামী হিসেবে যাদের নাম রয়েছে শুধু তাদেরকেই গ্রেফতার করা হবে, গ্রামে কোন রকম হয়রানি হবে না। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছেন।

স/বি