ফিরোজ জোয়ার্দ্দার:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রধান শিক্ষকের বেতের আঘাতে দশম শ্রেণির ছাত্র আশিক (১৫) আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে আহত স্কুল ছাত্রের খালা সাজেদা খাতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত আবেদন করেন। আহত স্কুল ছাত্রের খালা সাজেদা খাতুন জানান, জন্মের পর থেকে তার বোনের ছেলে আশিকুজ্জামান আশিককে তিনি লালন পালন করে আসছেন। আশিকের মা সম্প্রতি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ভারতের একইটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং আশিকও অসুস্থ। সে চন্দনপুর মাধমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেনির ছাত্র। আশিক শনিবার সকালে দেরিতে স্কুলে যাওয়ায় স্কুলের পিওন বজলুর রহমান তাকে শ্রেণি কক্ষে যেতে বাঁধা দেয়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দু’জনের মধ্য কথা কাটাকাটি হলে পিওন বজলুর রহমান আশিককে ধরে নিয়ে প্রধান শিক্ষক আনছার আলীর কাছে নিয়ে যায়। পিওনের সাথে তর্ক বিতর্ক করায় প্রধান শিক্ষক আশিককে বেতের লাঠি দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে আহত করে। লাঠির আঘাতে যন্ত্রনাকাতর আশিক স্কুলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্কুলের সহপাঠিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি (খালা) তাকে উদ্ধার করে কলারোয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনছার আলী জানান, আশিকুজ্জামান আশিক প্রায় সময়ই স্কুলের সহ শিক্ষকদের সাথে বেয়াদবী করে আসছে। তার বিরুদ্ধে ধুমপান করারও অভিযোগ আছে। বয়োজেষ্ঠ্য পিওন বজলু রহমানের সাথে বেয়াদবী করায় আশিককে মারপিট করেছি। আশিক ঘটনা ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য আমায় প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে জ্ঞান হারানোর নাটক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে যাতে কেউ বেশী কিছু বাড়া বাড়ি করতে না পারে সেজন্য জরুরী ভাবে শিক্ষকদের নিয়ে স্টাফ মিটিং করেছি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় অভিযোগের প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করে জানান, সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই স্কুল প্রধান শিক্ষক আনছার আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান।
স/ এষ্

