বোয়ালমারীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আটক-২২

বোয়ালমারীতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আটক-২২

 

 

আবু নাসের হুসাইন, নিজস্ব প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী গ্রামে পাটের জাগ হারানোকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ২২ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

সংঘর্ষের ঘটনায় শহিদ ফকির (৪৭) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই প্রতিপক্ষ মান্নান মাতুব্বরের লোকজনের ৫০-৬০ টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু, ছাগলসহ ঘরের আসবাপত্র লুট করে নিয়ে যায় প্রতিপক্ষ।

জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে ইউনিয়ন আ’লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ
বিষয়ক সম্পাদক মান্নান মাতুব্বর ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি মো.
মাসুদুর রহমানের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মাসুদুর রহমান গ্রুপের পরমেশ্বদী গ্রামের বাসিন্দা আহত শহিদ ফকির ওইদিন সন্ধ্যায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাাতলে ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে মান্নান মাতুব্বর গ্রুপের ৫০-৬০ টি বাড়িতে রাতেই গরু, ছাগলসহ ঘরের আসবাপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় মাসুদুর রহমানের লোকজন।

এ দিকে সংঘর্ষ ও শহিদ ফকিরের মৃত্যুর ঘটনায়
ময়েনদিয়া ও পরমেশ্বদী দুই গ্রামের মানুষ জনশূন্য হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের লোক ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি।

শহিদ ফকিরের মামাতো ভাই পরমেশ্বদী গ্রামের ফকির পাড়ার আব্দুল মান্নান বলেন, শহিদ ফকিরের লাশ ময়না তদন্তের জন্য পুলিশ মর্গে পাঠিয়েছে। আমাদের পক্ষের লোকজনও বাড়ি ছাড়া।

বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, এ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুর ৩ টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার পাটের জাগ হারানোকে কেন্দ্র করে বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী গ্রামে দুগ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাটও করা হয়। সংঘর্ষের সময় কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। এসময় গুরুতর আহত শহিদুল ফকির নামের একজনকে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

Facebook Comments Box
Print Friendly, PDF & Email
Spread the love