ঢাকাশুক্রবার , ৭ মে ২০২১
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

মাচায় হলুদ তরমুজ চাষে সাফল্য কেন্দুয়ার রুবেল মিল্কীর

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
মে ৭, ২০২১ ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাচায় হলুদ তরমুজ চাষে সাফল্য কেন্দুয়ার রুবেল মিল্কীর

রাখাল বিশ্বাস, কেন্দুয়া : নেত্রকোণার কেন্দুয়ার কৃষক রুবেল মিল্কী। তিনি ছোটবেলা থেকে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত। কৃষিতে সফলতা আনার অদম্য স্পৃহা তাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। ফলে নতুন চিন্তা থেকে তিনি ৫০ শতাংশ ভূমির একটি ক্ষেতে তিন রঙের তরমুজ চাষ করে সফলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউটিউব চ্যানেলে বিদেশের বিভিন্ন রঙিন তরমুজ চাষ দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। সপ্ন দেখেন মাছায় বিভিন্ন রঙের তরমুজ চাষের। ব্যাস শুরু করেন স্বপ্নবুনা। ঢাকা থেকে বীজ এনে বাড়ীর পাশে নিজস্ব প্রায় ৫০ শতক জমিতে চাষ করেন হলুদ, কালো ও সবুজ রঙের তিন প্রজাতির তরমুজ। তৈরী করে দেন মাছা। বাহারী রঙের তরমুজ ফলতে শুরু করলে এলাকার কৃষকসহ সকলেই তাক লেগে যান। এ চাষ এলাকায় প্রথম হওয়াতে মানুষের মাঝে তৈরি হয় কৌতুহল। বিশেষ করে হলুদ তরমুজ দ্রæত বাড়তে থাকায় এলাকার মানুষদের দৃষ্টি কাড়ে।

বাহারী তরমুজ চাষ দেখতে প্রতিদিন অনেক দশনার্থী ছুটে আসেন ক্ষেতের আলে। অনেকেই ক্ষেত থেকেই কিনে নিচ্ছেন এ তরমুজ। সরেজমিনে উপজেলা মোজাফরপুর ইউনিয়নের বড়তলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাছায় তিন রঙের অনেক ছোট-বড় বাহারি তরমুজ দুলছে। কৃষক রুবেল মিল্কীর ছেলে ঢাকা উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্র তানহার আনাস মিল্কী ফাহিম জানান, তার কুয়েত প্রবাসী এক চাচা সে দেশের রঙিন এ তরমুজ দেখে তাদেরকে তরমুজ চাষ করতে পরামর্শ দেন।

পরে ফাহিম ইউটিউব চ্যালেন দেখে তার পিতা রুবেল মিল্কীকে তরমুজ চাষের কথা বলেন এবং ঢাকা থেকে বীজ নিয়ে আসেন। পরে পিতা-পুত্র মিলে গত ফাল্গুন মাসের ১ম সপ্তাহে বীজ বপন করা হয়। তিনি এ তরমুজকে গোল্ডেন ক্রাউন বলেন। বৈশাখ মাসের প্রথম সপ্তাহেই পরিপক্ক হয়ে উঠে এ তরমুজ। তিনটি জাতের তরমুজ গুলোর ভেতর টকটকে লাল, খুবই মিষ্টি এবং রসালো।

কৃষক রুবেল মিল্কী আরও জানান, প্রতিটা তরমুজ ১ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহের গরম বাতাসে তরমুজের বেশ ক্ষতি হয়েছে নইলে আরও ভাল ফলন হতো। তারা জানানা একটি চালান ঢাকা পাঠিয়ে বিক্রি করেছেন।

স্থানীয়ভাবেও প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রতি তরমুজ সাইজ অনুযায়ী এক থেকে দুইশ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এই চাষে ৭০/৮০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রথম হয়েছে তো তাই লাভ একটু কম হতে পারে। তাছাড়া হিট শকেও কিছু ক্ষতি হয়েছে। ছেলে ফাহিম মিল্কী জানান, লেখা পড়ার পাশাপাশি বাবাকে কৃষি কাজে সহায়তা এবং আধুনিক চাষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি।

আমাদের মাচায় এই তরমুজ চাষে এলাকার কৃষকদের মাঝেও সাড়া জেগেছে। এই তরমুজ চাষে কৃষি অফিসের কোন সহযোগিতা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে কৃষক রুবেল মিল্কীর ছেলে তানহার আনাস মিল্কী বলেন, না।

কৃষি কাজের ব্যস্ততায় উপজেলা কৃষি অফিসের যাওয়া হয়নি। তবে দু:খের বিষয় আমাদের ব্লকের কৃষি কর্মকর্তা কে ? আমরা তা আজও জানতে পারিনি। এই ব্লকের কৃষি কর্মকর্তা কখনই আমাদের এলাকায় আসেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা একেএম শাহজাহান কবির জানান, হলুদ তরমুজ চাষের বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি, পরে অবশ্য শুনেছি। বøক কর্মকর্তার বিষয়ে বলেন, মোজাফরপুর ইউনিয়নের জন্য একজন মহিলা কর্মকর্তা আছেন। তার মাতৃত্বকালীন কারণে হয়তো যাওয়া হয়নি। কাজের চাপ একটু কমলে আমি নিজেই দেখতে যাবো।

স/বি