বিশেষ সংবাদদাতা :
রাজধানীতে একশ্রেণির সুন্দরীদের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। জুয়েলারি ও ফার্নিচার দোকানিরা এদের মূল টার্গেট বলে অভিযোগ। নিজেদেরকে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাতায়াতের মাধ্যমে সখ্যতা তৈরি করে। পরবর্তী সময় সুযোগ বুঝে কাজ হাসিল শেষে সটকে পড়ে এ প্রতারক সুন্দরীরা।
রাজধানীর জুরাইনে সৈয়দ ফার্নিচার দোকানে হ্যাপি নামের এক সুন্দরী নিজেকে পুলিশ অফিসারের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে যাওয়া আসা শুরু করে। তার স্বামীও নিজেকে ভুয়া পুলিশ অফিসার ও স্থানীয় থানার দারোগা হিসেবে পরিচয় দেয়। বেশ কয়েকদিন যাতায়াতের পর দুজনে ফার্ণিচার ক্রয় করতে আসে।
সৈয়দ ফার্নিচারের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে বোকা বানিয়ে এক লাখ একানব্বই হাজার টাকার ফার্নিচারের অর্ডার করে। কিছুক্ষণ পর মোবাইলে ফোন করে রিকুজিশন পিকআপভ্যান নিয়ে আসে। মাল উঠাতে করতে বলে গাড়িতে। মাল উঠানোর পর সুন্দরী হ্যাপি এক লাখ একানব্বই হাজার টাকার ব্রাক ব্যাংকের একটি চেক ধরিয়ে দেয়। দোকান মালিক দেলোয়ার হোসেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতারক চক্র বলে, এত টাকা কি সাথে রাখা যায়? আগামীকাল ব্যাংক থেকে তুলে নিবেন।
পরদিন ব্যাংকে গিয়ে দেলোয়ার হোসেনের বুঝতে বাকি নেই তিনি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছেন। পরে শ্যামপুর থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পববর্তী সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রতারক সুন্দরী হ্যাপির একটি ছবিও পাওয়া যায়।
একই এলাকার দিনার ফার্নিচারের দোকানে নারায়ণগঞ্জ জেলের ভুয়া পুলিশ মাসুম হাবিলদার পরিচয়ে ক্রেতা সেজে আসে। পঁচানব্বই হাজার টাকার আলমারি, শোকেস ও খাট অর্ডার করে। মোবাইলে ওই ভুয়া পুলিশ তার স্ত্রীকে ফোন দেয়, অপর প্রান্তে স্ত্রী জানায়, আমি প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে জ্যামে আছি, টাকা নিয়ে আসতেছি।

ভুয়া জেল পুলিশ মাসুম
তখন দোকানিকে প্রতারক বলে, আমার সাথে চলেন, আপনার ভাবির কাছ থেকে টাকা নিয়ে দিচ্ছি। রিকশা করে দিনারকে ইত্তেফাক মোড়ে দেশবন্ধু মিষ্টি দোকানে নিয়ে যায়। মিষ্টির দোকানে ওই প্রতারক চল্লিশ কেজি মিষ্টির অর্ডার করে। মিষ্টি দোকানিকেও বলে টাকা নিয়ে আমরা আসতেছি। দুই ঘণ্টা পর দিনারকে অজ্ঞান অবস্থায় রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। সঙ্গে থাকা মোবাইল ও নগদ দশ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারক উধাও। পরে প্রশাসনকে অবহিত করলে মিষ্টির দোকানের সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশ প্রতারকের ছবি সংগ্রহ করে।
সৈয়দ ফার্নিচারে সংঘটিত ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা (শ্যামপুর থানা) তোফায়েল আলম বলেন, রাজধানীতে হরহামেশা এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়া উচিত। ভিক্টিম চেকের মামলা করেনি, মামলা করলে আমরা যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেব।

