হিলিতে মাস্ক ছাড়াই চলছে কেনাবেচা, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
মোঃ আব্দুল আজিজ, হিলি প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার সর্ব দক্ষিণে অবিস্থত হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা। এটি ভারত সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। এখানে রয়েছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ স্থলবন্দর। ভারত হতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
অপর দিকে ভারতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেশি। সীমান্তের জিরো পয়েন্ট ট্রাকগুলো প্রবেশের সময় স্প্রে করানো হলেও কিছুটা আতঙ্ক রয়েহিলিতে মাস্ক ছাড়াই চলছে কেনাবেচা, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধিছে এলাকাবাসীর মাঝে।
অপর দিকে শীতে দেশে দ্বিতীয় দফা করোনায় সংক্রমণের কথা বিশেষজ্ঞরা বললেও দিনাজপুরের হিলিতে সাধারণ মানুষের মাঝে নেই কোনও ভয়। হিলিবাজারসহ আশেপাশের এরাকার দোকানগুলোতে নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা। বাজারে আসা অধিকাংশ মানুষই মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন না।
এদিকে হাকিমপুর উপজেলা প্রশাসনের অভিযানও তেমন চোখে পড়ে না। এতে করে শীতে করোনায় আক্রান্তের হার বাড়ার আশংকা করছেন অনেকেই।
এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হিলি স্থলবন্দর, হিলি বাজারের পানহাটি, কাঁচাবাজার, চালহাটি, কাপড়পট্টি, মাছহাটি, মাংসপট্টি, বাসনপট্রি, বিভিন্ন খাবারের হোটেল, ঔষুধের দোকানসহ বাজারের প্রায় সব স্থানেই দোকানগুলোতে কোনও ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না।
মানুষই মুখেই নেই মাস্ক। যদিও বা মুখে মাস্ক আছে তার অধিকাংশই থুঁতনির নিচে। যা দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে করোনা মহামারি চলছে। বিন্দু পরিমাণ কোন ভয় নেই বাজার করতে আসা মানুষগুলোর মাঝে।
কথা হয় হিলি বাজারে বাজার করতে আসা আজিজুল ইসলামের সাথে। মাস্ক না থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আরটিভি নিউজকে জানান, মাস্ক ভুলবসত বাড়িতে রেখে আসছেন। বাজার শেষে তিনি একটি নতুন মাস্ক কিনে নিবেন। এর পর থেকে বাজারে আসলে মাস্ক নিয়ে আসবেন।
এদিকে কথা হয় হিলি স্থলবন্দরের এক রিক্সা চালকের সাথে। তিনি আরটিভি নিউজকে জানান, বর্তমানে হিলিতে করোনাভাইরাস নেই সেই জন্য তিনি মাস্ক ব্যভহার করছে না। অনেক যাত্রী তার রিক্সায় মাস্ক পড়ে ওঠে না। সেই জন্য তিনিও মাস্ক ব্যবহার করেন না।
অপরদিকে কথা হয় পান কিনতে আসা জরিনা বেগম এবং নাসরিন আক্তারের সাথে। মাস্ক ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আরটিভি নিউজকে জানান, আগে নিয়মিত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হতো তখন মাস্ক পড়তাম। এখন আর তেমন কোন কড়াকড়ি নিয়ম নেই সেই জন্য মাস্ক ব্যবহার করিনা।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান আরটিভি নিউজকে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাস্ক ছাড়া কোন প্রকার সেবা দিচ্ছেন না তারা। ১২ আগস্ট পর্যন্ত মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাথ্যবিধি মানার কারনে এই উপজেলাতে করোনায় আক্রান্ত ছিলো ১১ জন। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা।
এছাড়াও উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করার জন্য উপজেলা স্বমন্বয় মিটিংএ আলোচনা করবেন তিনি।
তিনি আরও জানান, হাকিমপুর উপজেলাটি একটি ছোট উপজেলা। এখানে করোনায় আক্রান্ত্রের হার ও মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে কম। এ পর্যন্ত এই উপজেলাতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন একজন, সুস্থ হয়েছেন ৮২ জন।
হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত আরটিভি নিউজকে জানান, আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। সরকারিভাবে যে কর্মসূচি পালন করার কথা বলা হবে আমরা তা পালন করবো। করোনার শুরুতেই আমরা “নো মাস্ক নো এন্ট্রি” এবং “নো মাস্ক নো সেল” কার্যক্রম চালু করেছিলাম।
’যার কারনে আমাদের হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কম। এছাড়াও সবাইকে সতর্ক থেকে মাস্ক ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন।
স/এন

