টমেটো চাষে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা
এম এম রহমান: মুন্সীগঞ্জ জেলায় এবছরও অধিক পরিমান জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষকই আগাম টমেটো বাজারে বিক্রি শুরু করেছে। দ্বিতীয় ধাপে কৃষকরা তাদের জমিতে অধিক পরিমান টমেটো চাষ করেছে। বিস্তৃর্ন জমিতে কৃষকরা এখণ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
প্রতিটা গাছের গোড়ায় বাঁশের চাটাই দেয়া হয়েছে যেন বাতাসে গাছগুলো যেন হেলে না পড়ে। পাশাপাশি টমেটো গাছে যখন টমেটোতে পরিপূর্ন হবে সেজন্য প্রতিটা গাছকে বাঁশের সাথে বেঁধে রেখেছে কৃষকরা।
সরেজমিনে সদর উপজেলার মহাখালি ইউনিয়নের লোহারপুল, বাগেশ্বর, সাতানিখিল, বজ্রযোগিনী এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমিতে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ টমেটো গাছগুলো। গাছগুলোতে ফুল ছেড়েছে। অনেক জমিতে গাছে গাছে থোকনা থোকনা কাচা টমেটো ঝুলে আছে। আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যেই এসব জমি থেকে কৃষকরা পুরোদমে টমেটো তুলে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারবে।
টমেটো গাছের এই প্রজননকালীন সময়ে কৃষকরা টমেটো গাছকে পোকা মুক্ত রাখতে ব্যবহার করছেন নানা ধরনের কিটনাশক ওষুধ। পাশাপাশি টমেটোর জমিতে সেচ পাম্প দিয়ে পানি দিচ্ছে নিয়মিত। কিছু কিছু কৃষক অল্প অল্প করে টমেটো তোলা শুরু করলেও অধিকাংশ কৃষক আছে অপেক্ষায়।
আগামী সাপ্তাহেই তারা টমেটো বাজারজাত করতে ব্যস্ত থাকবে বলেও জানান তারা। মাঠ ঘুরে টমেটোর জমির দৃশ্যই কৃষকদের আগাম বার্তা এবছর টমেটোর বাম্পার ফলন হবে।
টমেটো চাষি আফজাল কাজী বলেন, এবছর তিনি ২ একর জমিতে টমেটোর আবাদ করেছে। অধিকাংশ জমিতে টমেটো গাছে ফুল ধরেছে। তিনি আশাবাদি আগামী সাপ্তাহে সে পুরোপুরো টমেটো সংগ্রহ করতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, ইতিমধ্যে তিনি তার একাধিক জমি থেকে অল্প অল্প করে টমেটো তুলে বাজারে বিক্রি করছেন। পাইকারী ৬০ টাকা এবং খুচরা ৭০ টাকায় স্থানীয় বাজারেই তিনি এই আগাম টমেটো বিক্রি করছেন। ১০/১২ দিন পর থেকে তার প্রতিটা জমি থেকেই তিনি পাকা টমেটো তুলে বাজারে বিক্রি করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: শাহ আলম বলেন, প্রতি বছরই জেলার টমেটো চাষিরা লাভবান হচ্ছে। এবছর কৃষকরা আগে থেকেই বাড়ীতে চারা করে রেখেছিলো । জমির পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই তারা জমিতে টমেটোর চারাগুলো রোপন করে ফেলেছে।
অধিকাংশ টমেটোর জমিতেই এখন ফুল আর থোকা থোকা কাচা টমেটো ঝুলছে। বাজারে টমেটোর দাম বেশী । আমরা আশাবাদি এবছরও জেলার কৃষকরা টমেটোতে অধিক লাভবান হবে।
স/এন

