কেশবপুর(যশোর) প্রতিনিধি:
কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কেশবপুর পৌর এলাকার আলতাপোল ওয়ার্ডের মৃত মনিন্দ্র নাথ সাহার ছেলে চন্দ্র শেখর সাহা অভিযোগ করেছেন যে, তার পৈর্র্তৃক জমি থেকে উচ্ছেদ করতে রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন রকম মিথ্যা অভিযোগ ও হামলার পথ বেছে নিয়েছে। বর্তমানে রফিকুল গংদের বিভিন্ন রকম হুমকীর কারনে তিনি ও তার পরিবার পরিজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, তার বিরুদ্ধে বাজিতপুর গ্রামের মৃত ইবাদ আলী মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম যশোর দেওযানি কার্য্য বিধির ৩৯ আদেশের ১/২ রুল এবং ১৫১ ধারা মতে মোকাম কেশবপুর সহকারী জজ আদালত যশোরে একটি মামলা করে,যার নং- ৩৫/১৭। এ মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত এ্যাডভোকেট (সার্ভে) কমিশনার ইলিয়াস সাদতকে (শাহাদাৎ) সরেজমিনে তদন্ত করে স্কেস ম্যাপ প্রস্ততসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সে মোতাবেক এ্যাডভোকেট (সার্ভে) কমিশনার ইলিয়াস সাদত (শাহাদাৎ) গত ৩১ মার্চ শুক্রবার সকালে জমির সীমানা নির্দ্ধারণ করার জন্য আসেন। কিন্তু এ জমির সীমানা নির্দ্ধারণ করার পূর্বেই এ্যাডভোকেট (সার্ভে) কমিশনার ইলয়াস সাদত (শাহাদৎ) আমাকে ২০ বছর পূর্বের একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচের টাকা দিতে অস্বীকার করায় এ্যাডভোকেট (সার্ভে) কমিশনার ইলিয়াস সাদত (শাহাদৎ) বাদীর সহিত গোপন আতায়তের মাধ্যমে কোন সীমানা পিন থেকে না মেপে শুধু মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম দিং এর দখলকৃত সম্পত্তি পরিমাপ করে স্থানীয় পৌর কমিশনার ও গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং জমির মালিকদের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার বিষয়টি আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তখন এ্যাডভোকেট (সার্ভে) কমিশনার ইলয়াস সাদত (শাহাদৎ) এর নিকট উভয়ের জমি পরিমাপ না করে আপনি কিভাবে আমাদের স্বাক্ষর দিতে বলছেন সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,আদালত শুধু বাদীর জমি সঠিক আছে কিনা সেটা মাপার জন্য পাঠিয়েছে। অন্যদের জমি ঠিক থাক বা না থাক তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। লিখিত বক্কব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন সংখ্যালঘু সমপ্রদায় ভুক্ত হওয়ায় বাদী রফিকুল ইসলাম দিং জোর করে আমাদের উচ্ছেদের জন্য সার্ভে কমিশনকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তুষ্ট করে একজনের জমি আরেক জনের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে বাদী রফিকুল ইসলাম দিং এর জমি ০৭ শতকের স্থলে ০৮ শতক বুঝ করে দিয়ে ছলচাতুরির মাধ্যমে স্থানীয় কমিশনার ও গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। প্রকৃত পক্ষে জেলা যশোর, থানা কেশবপুর মৌজা আলতাপোল জে.এল নং ৭২ সি.এস খং- ১২৭৯/৩, এস.এ খতিয়ান নং- ১০৯২, সি.এস/এস.এ দাগ নং- ২৬২, মোট জমির পরিমাণ= ১৬ শতক। ১৬ শতক জমির মধ্যে মামলার বাদি রফিকুল ইসলাম ও তাহাদের ভ্রাতাগণ পূর্ববর্ত্তীক্রমে উক্ত দাগের পূর্বাংশ হইতে ০৭ শতক জমিকতৃ চিহ্নে আপোষ বিভাগ সূত্রে সত্ববান ও দখিলকার থাকেন ও আছেন এবং ১নং বিবাদী শ্রী চন্দ্র শেখর সাহা এবং তদীয় ভ্রাতাগণ পূর্ব্বত্তীক্রমে ২৬২ দাগের পশ্চিমাংশ হইতে ০৯ শতক জমিকতৃ চিহ্নে আপোষ বিভাগ সূত্রে সত্ববান ও দখিলকার থাকেন ও আছেন। ৬২ সালের পর্চা অনুযায়ী এবং বর্তমানের মাঠ জরিপের রেকর্ড অনুযায়ী উক্ত ব্যক্তিদের জমি সঠিক থাকলেও দখলদৃষ্টে দেখা যায় রফিকুল ইসলাম দিং ক্ষমতার অপব্যবহার করে গায়ের জোরে অবৈধ ভাবে ০৭ শতকরে স্থলে ০৮ শতক ভোগ দখল করিতেছে । চন্দ্র শেখর সাহা দিং ০৯ শতকের স্থলে ৮.৬০ শতক ভোগ দখল করাইতে বাদি বাধ্য করিতেছে । শুধুমাত্র প্রতিহিংসার বর্শবর্তী হয়ে সংখ্যালঘুদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বাদি রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও কোর্টে মামলা করে হয়রানি করছে। ১৬ শতক জমির উপর পাকিস্তান আমলেই ২টি দ্বিতল ভবন নির্মাণ অবস্থায় অদ্যাবধি জে যার মত ভোগ দখল করিতে থাকা অবস্থায় তিনি চন্দ্র শেখর সাহা দিং এর ভবনটি ব্যবহারে অনুপোযোগী হওয়ায় ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করিবার সময় রফিকুল ইসলাম দিং এই সমস্যার সৃষ্টি করে। ২৬২ দাগের পাশ্ববর্তী জমির মালিক বিমল দত্তর একটি পাকিস্তান আমলের দ্বিতল ভবন রহিয়াছে। যাহার দাগ নং- ২৬৩। জমির পরিমাণ ৫ শতক। অথচ এ্যাডভোকেট (সার্ভে) কমিশনার ইলিয়াস সাদত (শাহাদৎ) ২৬৩ দাগের জমির মালিকের ১ শতক জমি ২৬২ দাগের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং ২৬২ দাগের ১ শতক জমি সরকারী রাস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে চন্দ্র শেখর সাহা দিং এর ক্ষতি করিবার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ভাইপো দিলীপ সাহা ও টিটো সাহা । তারা হয়রানী মূলক মামলা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সহৃদয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
স/জনী

